মিয়ানমারের রাখাইনে কোনো রোহিঙ্গা নারী ধর্ষণের শিকার হয়নি বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। রাখাইনে ধর্ষণের ঘটনায় সেনাবাহিনীর কেউ জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের রাখাইন সফরের মধ্যেই মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ করা হয়।

গতবছর অগাস্টে রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। গ্রামে গ্রামে ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ভয়াবহ বিবরণ এসেছে তাদের মুখ থেকে।

সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে জাতিসংঘ ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করে এলেও মিয়ানমার তা অস্বীকার করে আসছে। দেশটির সেনাবাহিনী এবং সরকার বলে আসছে, তাদের ওই অভিযান সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে।

রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সরাসরি দেখতে শনিবার থেকে সোমবার বাংলাদেশ সফর করেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা। তারা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গিয়ে তাদের মুখ থেকেই তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।

সোমবার বাংলাদেশ থেকে তারা মিয়ানমারের নেপিদোতে পৌঁছান এবং মঙ্গলবার মিলিটারি হেলিকপ্টারে থেকে রাখাইনের উত্তরাংশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। আকাশ থেকে রাখাইনের ধ্বংসের ক্ষত দেখার পর মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি এবং সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লায়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন জাতিসংঘ প্রতিনিধিরা।

সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তারা

সেনাপ্রধানকে উদ্ধৃত করে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমারের খবরে বলা হয়, যৌন সহিংসতাকে তারা ঘৃন্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করেন এবং যারাই এ অপরাধ করবে, তাদের বিরুদ্ধেই সেনাবাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাজ্যের স্থায়ী প্রতিনিধি কারেন পিয়ার্স রয়টার্সকে বলেন, রাখাইনে যৌন সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে আলোচনায় জেনারেল মিন অং হলাইংকে যথেষ্ট আন্তরিক বলেই মনে হয়েছে। তিনি বলেছেন, ওই ধরনের অপরাধকে সেনাবাহিনী কখনোই প্রশ্রয় দেয় না।

সু চি নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিশ্রুতি দেন, কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের ‘বিশ্বাসযোগ্য’ অভিযোগ পেলে তার সরকার অবশ্যই তা তদন্ত করবে।

বৈঠকে উপস্থিত একজন কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেছেন, দীর্ঘ দিনের সামরিক শাসনের পর আইনের শাসনে ফেরার প্রক্রিয়ার মধ্যে যে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে, সে কথাও সু চি স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, কিছু রোহিঙ্গা গ্রামে যা ঘটেছে বা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। যদি কারও হাতে প্রমাণ থাকে, তার অবশ্যই উচিৎ তা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে জানানো, যাতে তদন্ত করা সম্ভব হয়।”

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here