বিশ্বে মুসলমানদের হেয় প্রতিপন্ন করতে যখন নানা অপচেষ্টা হচ্ছে তখন মনিকা ও অৎসুকু হোশিনু নামে জাপানের দুই বৌদ্ধ নারীর জীবন বদলে দিয়েছে আল কোরআন। কোরআনের প্রেমে পড়েই এখন ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমান হয়েছেন তারা। সম্প্রতি তারা একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানিয়েছেন বৌদ্ধ থেকে ইসলাম গ্রহণের ইতিহাস। বলেছেন কেনও তারা প্রেমে পড়েছেন ইসলামের।

হোশিনু জানান, এর আগে লোকমুখে কোরআনের কথা শুনে কৌতুহলবশত তিনি ইন্টারনেটে সার্চ করেন। সেখানে কোরআন খুঁজে পেয়ে তা পড়তে পড়দে তার নেশার মতো হয়ে যায়। এরপর থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সবার থেকে আড়ালে গিয়ে কোরআন পড়তেন তিনি। হোশিনু পড়াশুনা করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে। বর্তমানে তিনি বাস করছেন ইরানে এবং ইসলাম ও মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) পবিত্র আহলে বাইত সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা অর্জনের চেষ্টা করছেন।

হোশিনু জানান, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার দৃশ্য বারবার দেখার পর প্রথম দিকে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হন। এরপর তার কাছে মনে হয়েছে এই ঘটনার সঙ্গে হলিউডের ছায়াছবিগুলোর বেশ মিল রয়েছে এবং ঘটনাটি এমন রহস্যময় যে এর পেছনে বা নেপথ্যে অনেক চালিকাশক্তি কাজ করছে। এই ঘটনার সঙ্গে ইসলাম ও মুসলমানদের জড়িয়ে অনেক নেতিবাচক কথা প্রচার করা হয়। কিন্তু তিনি অনুসন্ধান চালিয়ে দেখতে পান, ইসলাম নিয়ে পশ্চিমারা যে কথাগুলো ছড়াচ্ছে তা মিথ্যা। ইসলামের সঙ্গে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

কোরআন পাঠ করে বদলে গেছে দুই নারীর জীবন

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের প্রেক্ষাপট প্রসঙ্গে হোশিনু বলেন, ‘আমি বড় হয়েছি এক বৌদ্ধ পরিবারে। বৌদ্ধরা নিজ ধর্ম বিষয়ে খুবই রক্ষণশীল। আমার এক চাচা জাপানি সংসদে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিনিধি ছিলেন। তাই এ ধর্ম সম্পর্কে আমার গভীর জানাশোনা ছিল। আমার আরেক চাচা ছিলেন পুরোহিত। তিনি খ্রিস্টানদের বাইবেলও পড়েছেন। ফলে খ্রিস্ট ধর্মের সঙ্গেও আমি পুরোপুরি পরিচিত ছিলাম। আমার মনে কোনো কোনো বিষয়ে কিছু প্রশ্ন জাগতো, কিন্তু কেউই সেইসব প্রশ্নের জবাব দিতে সক্ষম হননি। কিন্তু ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর আমার জীবনের রঙ ও ঘ্রাণ বদলে যায়। কোরআন প্রথমবারের মত পড়েই মনে হয়েছে, সত্যিই তা আসমানি বা ঐশী কিতাব এবং অন্য ধর্মগ্রন্থগুলোর সঙ্গে এর রয়েছে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তাই বুঝলাম যে ইসলামই প্রকৃত খোদায়ী ধর্ম। পবিত্র কুরআন আমার মনের অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে এবং দূর করেছে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব। ফলে ইসলামের দিকে আরো গভীরভাবে ঝুঁকে পড়ি এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেই।’

আরেক নওমুসলিম মনিকা বলেন, আমি আমার হৃদয় ও আবেগ দিয়ে ইসলামের পথে পরিচালিত হয়েছি। আর এতে আমাকে সাহায্য করেছে পবিত্র কোরআন।

নিজের ইসলাম গ্রহণ প্রসঙ্গে মনিকা বলেন, আমি বড় হয়েছি জাপানের প্রযুক্তি আর আর্থিকভাবে উন্নত পরিবেশে। পড়াশুনা শেষ করে আমি সেখানে পরিবারের সঙ্গে শান্তিতেই বসবাস করছিলাম। জাপানের আর দশজনের মতো আমার পরিবারের সবাইও বৌদ্ধ। তাই আমিও বুদ্ধেরই অনুসারী ছিলাম। কিন্তু তারপরও আমি কোথায় যেন শান্তি পাচ্ছিলাম না। আমি আমার বাবা-মার কাছে পৃথিবী, চন্দ্র, সূর্য, স্রষ্টা সম্পর্কে নানা বিষয় জানতে চাইতাম, কিন্তু সদুত্তর পেতাম না। এভাবেই আমি অতৃপ্তি নিয়ে বেড়ে উঠলাম।

‘পড়াশুনা শেষ করে ১৯৮৮ সালে আমি চাকরি নিয়ে মিসর চলে আসি। সেখানেই বন্দুদের মাধ্যমে আমার হাতে আসে পবিত্র কোরআন। আমার কলিগরা আমাকে বলতে থাকেন ইসলামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মহিমা সম্পর্কে। কৌতুহল নিয়ে কোরআন অধ্যয়ন করেই আমার চোখ যেন খুলে যায়। আমি উত্তর পেতে থাকি আমার সমস্ত জিজ্ঞাসার। একসময় আমি বুঝতে পারি সত্যি, কোরআন জীবনের এক পূর্ণাঙ্গ সংবিধান। এতে আল্লাহ মানুষের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। এরজন্যই আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। এখন সবাই আমাকে মরিয়ম নামে ডাকে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here