প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা কোটা চায় না। তাদের দাবি মেনে নিয়েছি। এটা ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয় নয়। সব ধরনের কোটা বন্ধ। কোটার আর দরকার নাই।

সম্প্রতি সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফরের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যখন ছাত্ররা আন্দোলন করল, তখন সবাই এমন সোচ্চার হয়ে পড়ল যে কেউ তো তাদের থামাতে চেষ্টা করেননি। আন্দোলনে কারা ঢুকে পড়ল, তাদের থামাতেও তো কাউকে দেখিনি।

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতা প্রতিটি ক্ষেত্রে কোটার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। হঠাৎ কথা নাই বার্তা নাই কোটা চাই না বলে আন্দোলন শুরু হলো। শুধু আন্দোলনই নয়, রাস্তাঘাটও বন্ধ করে দিল। হাসপাতালে রোগী যেতে পারছিল না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা ছাত্রদের বিষয় নয়, এটা ছাত্রদের নয়। এটা সরকারের বিষয়। নামকাওয়াস্তে টাকায় আমরা পড়াই। সমস্ত খরচ সরকারের পক্ষ থেকে চালানো হয়।

তিনি বলেন, তারপরও যখন তারা কোটা চায় না, আমি দাবি মেনে নিয়েছি। ক্ষুব্ধ হওয়ার বিষয় না। সেটা নিয়ে এখন প্রশ্নের দরকার কী?

শেখ হাসিনা বলেন, আগেও বলেছি- কোটা পূরণ না হলে মেধাবী থেকেই পূরণ হচ্ছিল। তাদের পাঁচ দফা কিন্তু আগেই পূরণ হচ্ছিল। ৭২ শতাংশ, কখনো কখনো ৭৭ শতাংশই মেধা থেকে নিয়োগ হচ্ছিল। যারা পরীক্ষা দিচ্ছে সবাই তো মেধাবী।

তিনি বলেন, তারপরও যখন এতো আন্দোলন, ঠিক আছে আমি মেনে নিয়েছি। এরা তো আমার নাতির বয়সী। ঠিক আছে মেনে নিলাম। সব কোটা বন্ধ। এখন তাহলে প্রশ্ন আসবে কেন? সুতরাং আমরা করে দিয়েছি। আর কোটার দরকার নাই।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যদিও নিজে মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু অবৈধভাবে সরকার গঠন করেছিল। কাদের নিয়ে সরকার গঠন করেছিল? যারা স্বাধীনতাবিরোধী ও জাতির পিতার হত্যাকারী তাদের নিয়ে সরকার গঠন করেছিল।

তিনি বলেন, ওই সময় অনেক অফিসার ভয়ে মুক্তিযুদ্ধের নামটাও নিত না? কত শতাংশ তখন মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পেয়েছে?

শেখ হাসিনা বলেন, কোটা নিয়ে নানা কথাবার্তা বলা হয়েছে, ব্যঙ্গ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমরা অনেক দেশ থেকে এই ধরনের আসামি এনে থাকি। ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তার তো নানা ধরনের অপরাধ। নিশ্চয় এ ধরনের সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ফেরত নিয়ে আসব।

তারেক রহমানের নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কোনো দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় পেতে হলে তাকে পাসপোর্ট সারেন্ডার করতে হয়। এ ধরনের সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে বিএনপি মনে করে সবচেয়ে জনপ্রিয় লোক। তারা লোক খুঁজে পেল না? সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে চেয়ারম্যান করা হলো!

‘রাজনীতিতে এমন দেউলিয়াপনা আর দেখেছেন? বাস্তবতা কী? বাংলাদেশের রাজনীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে?’ যোগ করেন তিনি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here