বাংলাদেশে ২০১৮ সালকে বলা হচ্ছে নির্বাচনের বছর। এ বছরের শেষ দিকেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নিয়ে সরকার থেকে শুরু করে সব প্রশাসনেই চলছে নানা রকম প্রস্তুতি। তবে এই বছর প্রথম চারমাসেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড অন্য বছরগুলোর তুলনায় বেড়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ডয়চে ভেলে।

নানাভাবে সমালোচিত মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ এর বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বাংলাদেশে চলতি বছরের প্রথম চারমাসে ক্রসফায়ারসহ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৭৩ জন। এই সংখ্যা গত বছরের প্রথম ছয় মাসের সমান।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের বছর ২০১৩ সালে ক্রসফায়ারের যে হার তার সঙ্গে এবারের হার প্রায় কাছাকাছি।

অধিকার জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ক্রসফায়ার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনে ৭৩ জন নিহত হয়েছে। অধিকারের হিসাব মতে, ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৫৪, ২০১৬ সালে ১৭৮, ২০১৫ সালে ১৮৬, ২০১৪ সালে ১৭২ এবং ২০১৩ সালে ৩২৯ জন নিহত হয়েছে।

অধিকারের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছর ছয়মাসে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে ৭৭ জন। চলতি বছরের প্রথম চারমাসেই তা গতবছরের ছয় মাসের সমান। নির্বাচনের আগের বছর ২০১৩ সালে প্রতিমাসে গড়ে ২৭ জন ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে। চলতি বছরেও প্রতিমাসে আগের বছরগুলোর তুলনায় ক্রসফায়ারে নিহতের হার বাড়ছে। এই হার প্রায় ১৯ জন। ২০১৩ সালের হারের পরই এর অবস্থান।

অধিকারের পরিচালক নাসিরউদ্দিন এলান বলেন, ‘এবছর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আবার বেড়ে যাচ্ছে, এটা অ্যালার্মিং। ২০১৩ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অনেক বেশি ছিল। পরের বছরগুলোতে আবার কমে আসে। ২০১৪ সালে বিতর্কিত নির্বাচনের আগের বছর অনেক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছে। দমন, নির্যাতনের পরিস্থিতি ছিল তখন। এ বছর আবার জাতীয় নির্বাচন হবে। তবে সে কারণে বিচারবহির্ভূত হত্যা বেড়ে যাচ্ছে কি না তা বলার সময় এখনো আসেনি।’

তবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বাড়ার প্রবণতার সঙ্গে নির্বাচনের সম্পর্ক দেখেন মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান। তিনি বলেন, ‘ক্রসফায়ার বেড়ে যাচ্ছে। গত বছরের প্রথম ছয়মাসের তুলনায় এবার তা চারমাসেই হয়েছে। আর যদি নির্বাচনের বছর ২০১৩-১৪ সালকে এই বছরের প্রবণতার সঙ্গে তুলনা করি তাহলে মিল পাই। তার মানে হলো যখন নির্বাচন সামনে আসে তখন এক ধরণের পরিস্থিতি তৈরি করা হয় বা তৈরি হয়, যে পরিস্থিতিতে নির্যাতন, ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বেড়ে যায়।’

তবে ‘অধিকারের’ মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনগুলোকে যথার্থ মনে করেন না তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বাংলাদেশের বাকস্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে, এই সংক্রান্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক রিপোর্টের প্রতিক্রিয়ায় সম্প্রতি বলেন, ‘এ রিপোর্টে যে বেসরকারি সংস্থাগুলোর বরাত দেওয়া হয়েছে, তাদের বক্তব্যও পরস্পরবিরোধী। এদের মধ্যে একটির নাম ‘অধিকার’। ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকায় হেফাজতের সমাবেশ শেষে তারা হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল বলে প্রতিবেদন দেওয়ার পর তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে তালিকা চাওয়া হয়েছিল। এনজিও অধিকার তালিকা দিতে ব্যর্থ হয়। এমন এনজিওর বরাতে তৈরি প্রতিবেদন সঠিক হওয়ার কথা নয়।’

গত ২০ এপ্রিল বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম ও বাকস্বাধীনতায় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০১৭ সালের বার্ষিক কংগ্রেশনাল-ম্যান্ডেটেড হিউম্যান রাইটস রিপোর্টে এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। এতে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ জানানোর পাশাপাশি ২০১৭ সালে বাংলাদেশে বাকস্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার কথা বলা হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here