ইতিমধ্যেই বিশ্বের সবচেয়ে মোটা কিশোরের খেতাব জুটেছে ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভার কারাওয়াংয়ের বাসিন্দা আরিয়া পারমানার ভাগ্যে। তবে এই খেতাব ছোট ছেলেটিকে গর্বিত করে না বরং তার বিশাল দেহ শিশুটির জন্য হয়ে উঠেছে অভিশাপ। এত বিশাল শরীর নিয়ে আরিয়া যেমন ভালোভাবে নড়াচড়া করতে পারে না, তেমনি যেতে পারতো না স্কুলেও। এমনকি শৈশবের স্বভাবসুলভ চঞ্চলতাটুকুও হারিয়ে তার হারিয়ে গিয়েছিল স্বাস্থ্যের কারণে।

আরিয়া পারমানা

কিন্তু সম্প্রতি তার স্বাস্থ্য খানিকটা কমায় এখন সে স্কুলে ভর্তি হতে পেরেছে। কিন্তু তারপরও আরিয়া এখনো ইন্দোনেশিয়াতো বটেই সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে মোটা কিশোর। দুই বছর আগেও তার ওজন ছিল ১৯০ কেজি। কিন্তু প্রাণান্ত চেষ্টায় এখন সে স্বাস্থ্য ১০ কেজি কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। অর্থাৎ ১২ বছর বয়সী আরিয়ার ওজন এখন দাঁড়িয়েছে ১৮০ কেজি।

স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে শরীরচর্চা করছে আরিয়া

আরিয়া জানায়, এত বিশাল শরীরের কারণে সে পাঁচ মিনিটের বেশি হাঁটতে পারে না, হাঁপিয়ে যায়। তাই দিনের অধিকাংশ সময়ই তার কাটে শুয়ে-বসে। এখন সে স্কুলে গেলেও বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল, টেনিস, ব্যডমিন্টন খেলতে পারে না। অন্যরা যখন খেলে তখন সে মন খারাপ করে সেগুলো দেখে।

শুয়ে বসেই দিন কাটে আরিয়ার

গত এপ্রিলে ইন্দোনেশিয়ার ওয়ার্ল্ড রেকর্ড মিউজিয়াম (এমইউআরআই) পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানায়, আরিয়াই হলো বিশ্বের সবচেয়ে মোটা কিশোর। অবিলম্বে তার চিকিৎসা দরকার, নয়তো আরিয়াকে বাঁচানো যাবে না। এরপর চার ঘণ্টার এক অস্ত্রোপচারের পর আরিয়ার ১০ কেজি ওজন কমে। এখন আরো ৫০ কেজি ওজন কমাতে চিকিৎসকরা আরিয়ার বাবা-মাকে লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

আরিয়ার খাদ্য তালিকা

জানা গেছে, ছোটবেলা লাগামহীন খাওয়া-দাওয়ার কারণে আরিয়া ভীষণ মোটা হয়েই বেড় ওঠে। একসময় তার স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি উদ্বেগের মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এরপরই সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন আরিয়ার বাবা-মা।

গোসলের জন্যও তার লাগেপুরো চৌবাচ্চা

তারা জানান, জন্মের সময় কিন্তু আরিয়ার কোনো অস্বাভাবিতা ছিল না। সহজ-স্বাভাবিক ওজন নিয়েই জন্মেছিল সে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শরীর মোটা হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে দেখা দেয় রাক্ষসের মতো ক্ষুধা। তার খাবার যোগাড় করতে গিয়ে তাদের নিঃস্ব হওয়ার অবস্থা। কারণ দিনে অন্তত পাঁচবার পেট ভরে খাবার দিতে হতো আরিয়াকে। প্রতিদিন তার খাদ্য তালিকায় থাকতে হতো ভাত, মাছ, মাংস, শাক-সবজীর স্যুপ এবং ঐতিহ্যগত সোয়া পিঠা। এখন অস্ত্রোপচনার করে চিকিৎসকরা তার পাকস্থলির একটি অংশ কেটে ফেলেছেন। তাতে তার খাবারের চাহিদা আগের চেয়ে একটু কমেছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here