কাজ করেই খাচ্ছেন তারা। কিন্তু সে কাজটা যে অবৈধ সে বিষয়ে তাদের নেই কোনো মাথাব্যথা। নেই কোনো অপরাধবোধও। শুধু কি তাই বরং ভালো পরিচয় নিয়েই বুক ফুলিয়ে চলছেন। পরিচিতি পেয়েছেন ‘ধনাঢ্য ব্যবসায়ী’ হিসেবে, পেয়েছেন ‘দানবীর’ খেতাবও!

ইয়াবা বিক্রি করে কোটিপতি তারা দুই ভাই। আর এ নিয়ে তাদের রয়েছে গর্ববোধও। বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসায় দান-খয়রাতও করেন। ১৩ লাখ ইয়াবাসহ তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্যই পেয়েছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানার শ্যামলী আবাসিক এলাকায় একটি অভিজাত ফ্যাটে অভিযান চালিয়ে ১৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় আশরাফ আলী ও তার ভাই হাসানকে আটক করে পুলিশ। তারা বান্দরবানের নাই্যংছড়ি উপজেলার মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে।

ইয়াবা বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া আশরাফ আলীকে দেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা গডফাদার হিসেবে আখ্যায়িত করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, আশরাফ নিজেই মায়ানমার গিয়ে ইয়াবা কিনে আনে। সর্বশেষ ১৩ লাখ ইয়াবার চালানও ইয়াঙ্গুন থেকে নৌপথে চট্টগ্রামে আনা হয়েছে। আশরাফের শয়নকক্ষ থেকে ৪ লাখ এবং গ্যারেজে রাখা প্রাইভেট কার থেকে বাকি ৯ লাখ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

শয়নকক্ষে থাকা ইয়াবার কার্টনগুলো পানিতে ভেজা ছিল। আশরাফ পুলিশকে জানায়, ইয়াবাভর্তি ভেজা কার্টনগুলো রশি দিয়ে বেঁধে ট্রলার থেকে নিচে পানিতে ফেলা হয়। পানির নিচ দিয়েই সেগুলো আনা হয়েছে। কোস্টগার্ডের চোখ ফাঁকি দিতে এই কৌশল নেয়া হয়েছে।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (পশ্চিম) মইনুল ইসলাম জানান, ইয়াবার ছোট ছোট প্যাকেটগুলো প্রথমে কার্টনে ভরা হয়েছে। তারপর ৭-৮ স্তরের বায়ূনিরোধক র‌্যাপি দিয়ে মোড়ানো হয়। প্রতিটি কার্টনকে প্রায় ৪০ টির মতো পলিথিনে মোড়ানোর পর সেগুলো রশিতে বেধে ট্রলার থেকে পানিতে ফেলা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, বান্দরবানে থাকতে ছোট ছোট ইয়াবার চালান আনতেন আশরাফ আলী। একবার ধরা পড়ে জেলে যাবার পর পাঁচ বছর আগে চট্টগ্রাম নগরীতে চলে আসেন। এরপর শুরু করেন লাখ লাখ ইয়াবার চালান আনার কাজ।

প্রায় প্রতিমাসেই দেশের বাইরে যান আশরাফ। কখনো সিঙ্গাপুর, কখনো থাইল্যান্ড যাবার কথা বলেন। আসলে তিনি যান মায়ানমারে। সেখান থেকে সরাসরি ইয়াবা নিয়ে আসেন। মায়ানমারে যারা ইয়াবা তৈরি করেন তারা তাকে বাকিতেও দেন। বিক্রির পর হুন্ডির মাধ্যমে সেই টাকা পাঠিয়ে দেন। ইয়াবা কেনার টাকাও লেনদেন হয় হুন্ডির মাধ্যমে। গত পাঁচ বছর ধরে একই নিয়মে আশরাফ ব্যবসা করে আসছেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here