গোলাপের রঙ আর রূপে মুগ্ধ হন না এমন মানুষ কমই আছেন। তাইতো প্রাচীন কাল থেকে এখনও ঘর সাজানো থেকে শুরু করে সুগন্ধী উৎপাদনেও গোলাপের কদর আকাশচুম্বী। কিন্তু গোলাপের এ সুগন্ধের রহস্য কোথায়? সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা তা জেনেও গেছেন। প্রথমবারের মতো তারা উদঘাটন করেছেন ফুলটির পূর্ণ জিনগত কাঠামো।

গোলাপের এ রহস্য উন্মোচন করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু পেয়েছেন, যা বিস্ময় তৈরি করেছে। তারা বলছেন, আগামীতে নতুন রঙ এবং গন্ধ সমৃদ্ধ গোলাপ উৎপাদন সম্ভব। তখন হয়তো আরও আবেগী করে তুলবে কবিদের মন, পুংক্তিতে আসবে বৈচিত্র্য।

ফ্রান্সের লিও শহরে এ গবেষণা প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিয়েছেন বিজ্ঞানী মোহাম্মদ বেনদাহমানে। তিনি বলছেন, আট বছর ধরে গবেষণার পর তারা মোট ৩৬ হাজার ৩৭৭টি জিন চিহ্নিত করেছেন। খুঁজে পেয়েছেন কোন জিন গোলাপের গন্ধ তৈরি করে, কোন জিন রঙ এবং কোনটি ফুলের স্থায়িত্ব বাড়ায়। আর এ গবেষণায় যুক্ত ছিলেন ফ্রান্স, জার্মানি, চীন এবং ব্রিটেনের ৪০ বিজ্ঞানী।

গোলাপের জিন নকশা অবাক করেছে বিজ্ঞানীদেরও। তারা বলছেন, জিনোম সিকোয়েন্সের দিক দিয়ে গোলাপ স্ট্রবেরির খুব কাছের প্রজাতি। তারা গবেষণা শুরু করেছিলেন Rosa chinensis প্রজাতির গোলাপ নিয়ে, যার ইউরোপীয় নাম ‘ওল্ড ব্লাশ’। চীন থেকে ওই জাতের গোলাপ ইউরোপে যায় অষ্টাদশ শতকে।

কয়েক হাজার বছর আগে সম্ভবত চীনারাই প্রথম বাগানে গোলাপ চাষের সূচনা করেছিল। তবে রোমান যুগে সুগন্ধি আর রঙিন কাগজ তৈরির জন্য মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক হারে এ ফুলের চাষ হতো।

এদিকে নতুন এ আবিষ্কারের ফলে গোলাপ চাষিরা এখন আরও সুন্দর রঙ এবং মিষ্টি গন্ধের নতুন নতুন জাতের গোলাপ উৎপাদন করতে সমর্থ হবেন। এমনকি পোকাও ধরবে না এবং ফুলদানিতে আরও বেশিদিন তাজা থাকবে সেই বাহারি গোলাপ। বিবিসি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here