বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো থেকে নারী ও শিশুদের ভারত ও নেপালের বিভিন্ন পতিতালয়ে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাকরির কথা বলে এসব নারী শিশুদের দালালরা পাচার করছে বলে অভিযোগ করা হয়।

গত মার্চে বিবিসির একটি দল এবং ‘ফাউন্ডেশন সেন্টিনেল’ নামের অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নারী ও শিশু পাচারকারীদের ব্যাপারে অনুসন্ধান চালায়। তারা একটি রিসোর্টে অবস্থান নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দালালদের টেলিফোন নাম্বার যোগাড় করতে সক্ষম হয়। এরপর পুলিশকে জানিয়ে তারা ওই দালালদের কাছে অল্পবয়সি রোহিঙ্গা নারীর জন্য ফোন করেন। রাতে দু’জন অল্পবয়সি রোহিঙ্গা মেয়েকে গাড়িতে করে সেই রিসোর্টে পাঠিয়ে দেয় দালালরা। যে ড্রাইভার মেয়েদের নিয়ে এসেছিল, সে আরো মেয়ে দিতে পারবে বলে জানায়। পরে পুলিশ চালককে আটক এবং মেয়ে দু’টিকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যায়।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, অল্পবয়সি নারী ও শিশুরা পাচারকারী ও দালালদের মূল টার্গেট। বিপদগ্রস্ত এই নারী ও শিশুদের মূলত কাজের লোভ দেখিয়ে ক্যাম্প থেকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা, নেপালের কাঠমান্ডু ও ভারতের কলকাতায়।

এছাড়া বাংলাদেশেরও বেশ কটি দৈনিক পত্রিকায় এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে। এ বিষয়ে একটি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা আইওএমের মুখপাত্র হালা জাবের বলেন, ‘রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে শিশু-কিশোরদের নিখোঁজ হওয়ার হার বেড়ে গেছে বলে আমরা শুনেছি। কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগও পেয়েছি। এই ধরনের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাইও হচ্ছে। এই বিষয়ে এখনই সবার দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো দরকার।’

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো নিয়ে কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের মুখপাত্র ইউনুস আরমান বলেন, ‘গত বছর রোহিঙ্গা নারী ও শিশু পাচারের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছিল। কয়েকজনকে উদ্ধারও করা হয় তখন। দালাল চক্র কাজের ও ভালো থাকার প্রলোভন দেখিয়ে ক্যাম্প থেকে পাচার করে। তাদের বাংলাদেশের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় এবং ভারতে পাচার করা হয়। পরে তাদের যৌনকর্মে বাধ্য করা হয়। কিন্তু এই বছর আমরা এখনো ওই ধরণের কোনো অভিযোগ পাইনি। ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা আগের চেয়ে অনেক বাড়ানো হয়েছে। আর এখন সেনাবাহিনী ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকায় অপরাধী চক্র অনেকটাই নিস্ক্রিয় হয়ে গেছে।’

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সাবেক নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, ‘আমাদের টিম কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কাজ করছে। আমাদের কাছেও বেশ কয়েকটি নারী ও শিশু পাচারের অভিযোগ এসেছে। আমরা কয়েকজনকে উদ্ধারও করি। চার-পাঁচ জন হবে। প্রথমে তাদের আমরা আমাদের শেল্টার হোমে রাখি। পরে ডকুমেন্টশনের অসুবিধা হওয়ায় পুলিশের মাধ্যমে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়।”

তিনি আরো বলেন, ‘এই পাচারের সঙ্গে কিছু রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় চক্র জড়িত। এই পাচারের ঘটনা নতুন নয়, এর আগেও হয়েছে। আমরা ভারত ও পাকিস্তান থেকে আগে পাচার হয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা নারী ও শিশুকে উদ্ধার করেছি। ক্যাম্পে মনিটরিং আরো জোরদার করা দরকার।’

অবশ্য বাংলাদেশের শরণার্থী প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা নারী ও শিশু পাচারের কোনো অভিযোগ তাদের কাছে নেই।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেনও রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মানবপাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা আমাদের জানা নাই। আমাদের চোখে পড়ে নাই। আপনার কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে দিন। আমরা ব্যবস্থা নেব।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিবিসি গত মার্চে যে প্রতিবেদন করেছে তা ভুয়া। আমিই তাদের সহায়তা করেছিলাম। কিন্তু ওটা ছিল একটা সাজানো ঘটনা। তারা ঘটনা সাজিয়েছে।’ ডয়চে ভেলে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here