হিন্দু না মুসলিম? কোন রীতিতে হবে লাশ দাফন? সেই জটিলতায় চার বছরেরও বেশি সময় তার লাশ রাখা হয়েছিল হিমঘরে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে মুসলিম রীতিতেই স্বামীর কবরের পাশে শায়িত করা হয়েছে হোসনে আরা ওরফে নিপা রানীকে (২৩)।

শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টায় ডোমারের বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘর থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা। পুলিশ প্রহরায় মরহেদ দুপুর ১২টায় পৌঁছে শ্বশুর জহুরুল ইসলামের বাড়িতে।

এদিকে তার মরদেহ দেখতে সকাল থেকে ভিড় করতে থাকেন স্থানীয়রা। আশপাশের ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসতে থাকেন হোসনে আরার শ্বশুরবাড়িতে।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমা বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের আদেশে জেলা প্রশাসকের পক্ষে মরহেদ গ্রহণ করে বিকেলে ইসলামি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করা হয়েছে।

হোসনে আরার দাদি শাশুড়ি জুলেখা বেগম জানান, উচ্চ আদালতের আদেশে নাতবউয়ের লাশ পেয়ে আমরা খুশি। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাকে জানাজা শেষে নাতি লাইজু আখতারের কবরের পাশে নাতবউকে শায়িত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ুন ফরিদ লাইজু (২৩) প্রেমের সম্পর্কের কারণে একই উপজেলার বামুনিয়া গ্রামের অক্ষ্ময় কুমার রায়ের মেয়ে নিপাহ রানী রায়কে ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর ইসলাম ধর্ম রীতি অনুযায়ী বিয়ে করেন। বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিপা রানী নাম পরিবর্তন করে হোসনে আরা হিসেবে নিজের নাম ধারণ করেন।

বিয়ের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস শুরু করলেও ওই বছরের ২৮ অক্টোবর নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি অপহরণ মামলা করেন নিপাহ রানীর বাবা। আদালতে ছেলে-মেয়ের বিয়ে এবং তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করলে অপহরণ মামলাটি খারিজ করে দিয়ে তাদের হেফাজতে রাখার আদেশ দেন। এরই মধ্যে মেয়েকে পাগল দাবি করে আদালতে আবেদন করলে আদালত শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রাজশাহী সেফহোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি বিষপানে ছেলে হুমায়ুন লাইজু আখতার আত্মহত্যা করলে মেয়েকে নিজ হেফাজতে রাখার আবেদন করেন অক্ষ্ময় কুমার। পরে আদালত বাবার জিম্মায় মেয়েকে দেন। ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি থেকে মেয়েটি বাবার বাড়িতে ছিল। স্বামীর মৃত্যুর ৫৪ দিন পর (১০ মার্চ) বিষপানে আত্মহত্যা করেন হোসনে আরা ওরফে নিপা রানীও।

পুত্রবধূ হোসনে আরাকে ইসলামি ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন এবং হিন্দু ধর্মীয় অনুযায়ী সৎকারের জন্য বাবা অক্ষ্ময় কুমার লাশ দাবি করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করেন। কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না আসায় আদালতের নির্দেশে লাশ সংরক্ষণ করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজের হিমঘরে। এ নিয়ে উচ্চ আদালতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র একটি রিট করলে দীর্ঘ শুনানি শেষে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল ইসলাম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের আদেশ দেন।

আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে শুক্রবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজের হিমঘর থেকে লাশ গ্রহণ করে বিকেলে দাফন করা হয় স্বামীর কবরের পাশে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here