মেয়েদের শরীর পুরুষদের খেলার সামগ্রী নয়। বৃহস্পতিবার এমনই রায় শোনাল ভারতের মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একটি মামলা খারিজ করে হাইকোর্ট এই রায় দেয়।

ভূপালের বাসিন্দা রাজীব শর্মা উচ্চ আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন, যাতে তার বিরুদ্ধে করা প্রাক্তন প্রেমিকার ধর্ষণের অভিযোগ খারিজ করা হয়। এক সপ্তাহ আগে আরও একটি মামলার শুনানির সময়ে হাইকোর্ট জানিয়েছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার পর যদি কোনও ব্যক্তি প্রতিশ্রুতি ভেঙে দেন, তাহলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করতে পারে। বিয়েতে প্রতিশ্রুত হয়ে কোনও মেয়ের সহবাসে রাজি হওয়াকে কোনওভাবেই ‘ফ্রি কনসেন্ট’ বলে ধরা হবে না।

ফেসবুকে এক নাচের শিক্ষিকার সঙ্গে আলাপ হয় রাজীব শর্মার। কিছুদিনের আলাপের পর রাজীব ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। মহিলা প্রস্তাবে রাজিও হয়ে যান। পরে রাজীব তাকে বলেন, বিয়ের কথা যেহেতু পাকা হয়েই গিয়েছে, তাই সহবাস করলে কোনও সমস্যা হবে না। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন ওই মহিলার সঙ্গে সহবাস করেন রাজীব।

কিন্তু ২০১৭ সালের মার্চ মাসে আচমকাই নিজের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেন রাজীব। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই অশোক গার্ডেন পুলিশ স্টেশনে ২০১৭ সালের ১৯ মার্চ ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারিত মহিলা।

বিচারপতি সুশীল কুমার পালো এদিন সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘একজন নারীর শরীর পুরুষের খেলার সামগ্রী নয়। যৌন বাসনা চরিতার্থ করার জন্যে কোনও নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করা অপরাধ। এর জন্যে অপরাধীর যথাযাথ শাস্তি হওয়াই বাঞ্ছনীয়।’

রায় ঘোষণার সময় তিনি বলেন, ‘সব সাক্ষ্য প্রমাণ দেখার পর আদালত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে যৌন লিপ্সা মেটাতেই রাজীব শর্মা বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই নারীকে সহবাসের জন্যে রাজি করান। ওই মহিলার বিশ্বাস ভেঙেছেন রাজীব।’ সুশীল কুমার পালো পুলিশকে ধর্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা চালানোর পরামর্শ দেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here