এক সংবাদ পাঠিকাকে গাড়িতে তুলে সম্ভ্রমহানির চেষ্টা এবং তাকে হত্যার পর ৬৪ টুকরা করে ৬৪ জেলায় ছিটিয়ে দেওয়া হবে- ফোনালাপে এমন হুমকির পর তার কাছে এবার ক্ষমা চাইলেন পুলিশের ডিআইজি মিজানুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এক ভদ্রমহিলার সঙ্গে আমার কনভারসেশন (ফোনালাপ) হয়েছে। এ জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এ কথা বলেন আলোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তা।

অবৈধভাবে সম্পত্তি অর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার যে সম্পত্তি আছে, সে বিষয়ে দুদকের কর্মকর্তারা কথা বলেছেন। ট্যাক্স ফাইলের বাইরে কোনো সম্পত্তি নেই। স্বজনদের নামে সম্পত্তি বিষয়ে তিনি বলেন, আমার আত্মীয়স্বজনের নামে সম্পদও ট্যাক্স ফাইলে আছে। মৌলভীবাজারে সরকারি ইকোপার্কের জমিতে বাগানবাড়ি তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব বিষয়ে দুদকে কথা বলেছি। তাদের জিজ্ঞেস করেন।

এর আগে সকাল ৯টায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হন ডিআইজি মিজান। অবৈধভাবে ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত শতকোটি টাকার সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগে দুদকের মুখোমুখি হয়ে বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে বেরিয়ে আসেন। দুদকের মূল ভবনের পেছনে থাকা আরেকটি ভবনে স্থাপিত জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থেকে প্রবেশ আর বেরিয়ে আসার এই দীর্ঘ সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে বাইরে অপেক্ষারত ছিলেন কমবেশি অর্ধশত গণমাধ্যমকর্মী।

মরিয়ম আক্তার ইকো নামে বগুড়ার এক নারীকে জোর করে বিয়ের পর মামলার আসামি করে হাজতে পাঠানো এবং বেসরকারি একটি টেলিভিশনের সংবাদ পাঠিকাকে সম্ভ্রমহানিসহ হত্যার হুমকি দেওয়ায় মানুষের মুখে মুখে থাকায় তার প্রতি গণমাধ্যমের এত আগ্রহ। তবে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদে বিচলিত না হয়ে বরং প্যান্টের বাঁ পাশের পকেটে হাত ঢুকিয়ে হাস্যোজ্জ্বলভাবে তিনতলা থেকে বেরিয়ে আসেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

জিজ্ঞাসাবাদে মিজানুর রহমানের ছোট ভাই মাহবুবুর রহমান স্বপনের নামে বেইলি রোডের ফ্ল্যাট, কাকরাইল পাইওনিয়ার রোডে পুলিশের শিক্ষানবিশ এসআই পদে চাকরিরত ভাগ্নে মাহমুদুর হাসান নোমানের নামে কোটি টাকার ফ্ল্যাট, স্ত্রী সোহেলীয়া আনা রত্নার নামে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরে ফ্ল্যাট এবং গুলশান শুটিং ক্লাবসংলগ্ন পুলিশ প্লাজায় পজিশন কিনে ব্যবসা লগ্নি করা অর্থের উৎস সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়।

দুদক সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীর নামে উত্তরার ফ্ল্যাট এবং পুলিশ প্লাজার পজিশন ক্রয়ে কম মূল্যে দেখিয়ে তার পক্ষে বক্তব্য দেন মিজানুর রহমান। কিন্তু ওইসব সম্পত্তির বাস্তব যে মূল্যে রয়েছে, তার অন্তত চারগুণ ফাঁকি দিয়েছেন। অন্যদিকে পুলিশের সদ্য এসআই পদে যোগ দেওয়া গ্রামের মধ্যবিত্ত ঘরের ভাগ্নে এবং গ্রামের বাড়িতে একটি ফার্মেসির মালিক ভাইয়ের নামে কেনা ফ্ল্যাটের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ জন্য ভাগ্নে ও ভাইকেও তাদের আয় বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের উৎস জানতে দুদক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকবে বলে জানা গেছে।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ যাচাইয়ে দুদকের পক্ষ থেকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি সংস্থাটির উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারীকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তিনি ডিআইজি মিজানের স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পদের তথ্য চেয়ে এনবিআর, বিভিন্ন ব্যাংক, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ল্যান্ড ডেভেলপারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠান। সংশ্লিষ্ট তথ্যপ্রমাণ হাতে পেয়ে মিজানুর রহমানকে তলব করে ২৪ এপ্রিল পুলিশ সদর দপ্তরে নোটিশ পাঠায় দুদক। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে তার ঠিকানায় ওই চিঠি পাঠানো হয়।

দুদকের মুখোমুখি হয়ে ডিআইজি মিজান তার চাকরিজীবনে আয়-ব্যয়, এনবিআরে দেওয়া সম্পদের তথ্য, বড় ছেলের কানাডায় পড়াশোনা, নামে-বেনামে সম্পত্তি ক্রয়, নারীঘটিত বিষয়ে ব্যয়কৃত অঢেল অর্থের উৎস সম্পর্কে অনুসন্ধানী কর্মকর্তাদের কাছে জবাব দেন।

স্ত্রী-সন্তান রেখে মরিয়ম আক্তার ইকো নামে এক নারীকে মিজানুর রহমানের জোর করে বিয়ের খবর ফাঁস হয় গত জানুয়ারিতে। এ নিয়ে তোলপাড়ের পর আবার ফাঁস হয় এক সংবাদ পাঠিকাকে জোর করে গাড়িতে তুলে সম্ভ্রমহানির তথ্য। এর পর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তর থেকে মিজানকে প্রত্যাহার করে নেয় পুলিশ সদর দপ্তর।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here