মধ্যরাত পর্যন্ত ক্ষুধার্ত। ঘরেও কোনো খাবার নেই। উপায় না পেয়ে পলিথিনে মোড়ানো পাশের একটি বন্ধ দোকান থেকে আপেল চুরি করেন বৃদ্ধ মো. ইদ্রিছ মিয়া (৫৫)। কিন্তু হাতেনাতে ধরে ফেলেন ওই দোকানের মালিক। শুরু হয় উত্তম-মাধ্যম। এক পর্যায়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বৃদ্ধকে। পরে লাশটি বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের আদ্রা উত্তর ইউনিয়নের মেরকট বাজারে ঘটা ঘটনাটি বুধবার মধ্যরাতের।

পরদিন সকালে ইদ্রিসের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তার শ্যালক মোবারক উল্লাহকে খরব দেয়। তিনি এসে মরদেহ উদ্ধার করে দাফনের ব্যবস্থা করেন। বৃদ্ধর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে এলাকাবাসী দাবি করেন।

জানা গেছে, ইদ্রিস মিয়া পাশের মেরকট বাজারে জহিরের ফল দোকানের টুকরি থেকে একটি আপেল নিয়ে খাওয়ার সময় ধরা খান। দোকানী জহির ঘুম থেকে ওঠে তাকে মারধর করেন। পরে আবার ভাই জসিম, নিজাম, রুবেল, রশিদ ও বাবা আবদুল মান্নানকে খবর দিয়ে এনে ইদ্রিস মিয়াকে বেদড়ক মারধর করান। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

ঘাতকরা মরদেহটি কাঁধে করে নিয়ে বাড়ির পাশের ডোবায় পেলে দেয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ইদ্রিছ মিয়ার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যায়। বাদ মাগরিব জানাজা শেষে দাফন করা হয়। বিপত্মীক ইদ্রিস আট সন্তানের জনক। তার বাবার নাম মৃত রুহুল আমিন।

ঘটনার সময় ওই বাজারে থাকা কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাত আনুমানিক ২টা থেকে আড়াইটার সময় ইদ্রিসকে বেধরক মারধর করে আবদুল মান্নান মনু ও তার ছেলেরা। এরপর সকালে জানা যায় ওই বৃদ্ধের লাশ ডোবায় পাওয়া গেছে। তারা এও জানান, সকালে লাশ উদ্ধারের পর বিষয়টি জানাজানি হলে ইদ্রিসের শ্যালক মোবারক উল্লাহর ঘরে সাবেক মেম্বার আব্দুল বাতেন ও কয়েকজন প্রতিবেশী মিলে স্থানীয়ভাবে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে আবদুল মান্নান মনুর সঙ্গে রফাদফা হয়। এ সময় মনু মিয়া নগদ এক লাখ টাকা মোবারক উল্লাহর কাছে বুঝিয়ে দেয়। বাকি টাকা এক মাসের মধ্যে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, এখনও থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here