চট্টগ্রামে নির্মমভাবে নিহত তাসফিয়া আমিনের টেকনাফে দাফন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে নিহতের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে উপজেলার ডেইলপাড়ায় নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছলে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ শত শত মানুষ ভিড় জমায়। এ সময় বাড়িতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সবার প্রিয় মেয়েটির অকাল মত্যুতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এর পর তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় টেকনাফ ডিগ্রি কলেজ মাঠে। সেখানে জানাজা শেষে পার্শ্ববর্তী টেকনাফ পৌরসভার ডেইলপাড়া কবরস্থানে তাসফিয়াকে কবর দেওয়া হয়। জানাজায় অংশ নেওয়া এলাকার লোকজনের একটিই দাবি, তাসফিয়া হত্যাকারীদের শিগগিরই আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।

এদিকে নিহত তাসফিয়ার দাদা মোহাম্মদ আলী জানান, তাসফিয়া এভাবে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরবে তা কোনো দিন কল্পনাও করিনি। আমার সাত ছেলে সন্তানদের মধ্যে সবার বড় নাতনি সে। এই নাতি সবার খুব আদরের ছিল। আমার এই আদরের নাতনির হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

গত বুধবার সকালে চট্টগ্রাম পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে তাসফিয়ার মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা মোহাম্মদ আমিন বাদী হয়ে ছয়জনের বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে তাসফিয়ার বন্ধু আদনানকে আটক করে পুলিশ। তাকে সিএমপি আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। আদালত আগামী রবিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

এদিকে কিশোরী তাসফিয়ার লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার ওপর চালানো ভয়াবহ চিত্র। পিঠজুড়ে পাওয়া গেছে নির্যাতনের ছাপ। গোলাকার মুখম-ল থেঁতলানো। চোখ দুটোও যেন নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আর বুকের ওপর ছিল একাধিক আঁচড়ের দাগ। গোপনাঙ্গে ভয়াবহ হিংস্রতা। নিহতের হাতের নখগুলো ছিল নীল বর্ণ।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here