চট্টগ্রাম সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আমিনের হত্যায় বেশকিছু প্রশ্ন ওঠছে পুলিশের মনে। আর সেগুলো নিয়ে এগুচ্ছে তদন্ত। রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার সময় সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাওয়া পোশাকের সঙ্গে মরদেহের পোশাকের মিল না পাওয়া, পতেঙ্গা পৌঁছানো পর্যন্ত নিয়েও ওঠেছে নানা প্রশ্ন। তার হাতের আংটি আর নিজের ব্যবহারের মোবাইল ফোনটিইবা কোথায়?

পুলিশ জানায়, রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাসফিয়ার পরনে ছিল সালোয়ার-কামিজ। আর মরদেহ উদ্ধারের সময় ছিল স্কার্ট। এই অল্প সময়ের মধ্যে পোশাক পাল্টালো কে? তাছাড়া মরদেহের মুখে ফেনা পাওয়া যায়, যা বিষপানের ক্ষেত্রেই হয়। যদি তাসফিয়া বিষপান করে তবে সড়ক থেকে ২০/২৫ ফিট দূরে কীভাবে গেল? তাছাড়া মরদেহ উপুড় হয়ে থাকবে কেন? তার হাতে থাকা সোনার আংটি আর মোবাইল ফোনটি গেল কোথায়?

এই কিশোরীর মৃত্যুকে ঘিরে থাকা রহস্যের কূল-কিনারা করতে না পারলেও কয়েকটি ক্লু ধরে এগিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। আর সেগুলোর সমাধান করতে পারলেই বেরিয়ে আসবে মূল ঘটনা, এমনটাই মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ফিরোজ নামে এক যুবলীগ ক্যাডার ও অটোরিকশা চালককে খুঁজছে পুলিশ। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা।

গেল ২ মে সকালে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের ১৮ নম্বর ব্রিজঘাটের পাথরের ওপর থেকে কিশোরীর তাসফিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পতেঙ্গা থানা পুলিশ। পরে একই দিন সন্ধ্যায় নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তার প্রেমিক আদনান মির্জাকে আটক করে। ওই কিশোর বাংলাদেশ এলিমেন্টারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ব্যবসায়ী ইস্কান্দার মির্জার ছেলে।

সুরতহাল প্রতিবেদনে ওঠে আসে তাসফিয়ার ওপর চালানো ভয়াবহ চিত্র। তার পিঠ, বুক ও গোপনাঙ্গসহ সব স্থানেই দেখা গেছে লোমহর্ষক নির্যাতনের ছাপ। গোলাকার মুখমণ্ডল থেঁতলানো। চোখ দুটো নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আর বুকের ওপর একাধিক আঁচড়ের দাগও দেখা গেছে। নিহতের হাতের নখগুলো ছিল নীলবর্ণ।

৩ মে দুপুরে মোহাম্মদ আমিন তার মেয়েকে হত্যার অভিযোগে আদনান মির্জা ও ছয়জনকে আসামি করে পতেঙ্গা থানায় মামলা করেন। ওই মামলার ষষ্ঠ নম্বর আসামি ফিরোজ। সে আদনান মির্জার বড় ভাই। তার পরিচালিত রিচকিডস নামের গ্যাং স্টারের (এডমিন) প্রধান আদনান। আর বাকি ৫ আসামি সেই গ্যাং স্টারের ক্যাডার।

ঘটনার তদন্তে নেমে বেশকিছু ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। এতে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, নগরীর গোলপাহাড় মোড়ে রেস্টুরেন্টের সামনে থেকে তাসফিয়া যে অটোরিকশায় উঠেছিল, সেই অটোরিকশায় করেই পতেঙ্গায় পৌঁছান। সেই অটোরিকশায় তাসফিয়া এক থেকে দেড় ঘণ্টার মতো ছিল। এ সময়ে কোনো বাজে কিছু হয়েছিল কি না পুলিশ সেটা খতিয়ে দেখছে।

এছাড়া রেস্টুরেন্টের ভিডিও ফুটেজে তাসফিয়ার আঙুলে একটি সোনার আংটি দেখা যায়। কিন্তু মরদেহ উদ্ধারের সময় সেটি পাওয়া যায়নি। পুলিশের ধারণা, তাসফিয়া ওই আংটি অটোরিকশা চালককে দিয়ে ভাড়া মিটিয়েছিল। আবার অন্যকিছু হতে পারে।

৪ মে নগরীর গোলপাহাড় মোড় থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত চারটি প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। এর পর সন্ধ্যায় পতেঙ্গার নেভাল এলাকায় গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেন নগর পুলিশের কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) জাহেদুল ইসলাম।

তিনি জানান, তাসফিয়া গোলপাহাড় মোড়ের চায়না গ্রিল রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যে অটোরিকশায় উঠেছিল সেটি আনুমানিক একশ গজ দূরে মেডিকেল সেন্টারের সামনে গিয়ে থামে। তা থেকে নেমে সেখানে ৭ সেকেন্ড অপেক্ষার পর আবারও অটোরিকশায় ওঠলে সেটি চলতে শুরু করে। ৬টা ৪৮ মিনিটে অটোরিকশাটি জিইসি মোড়ের দিকে যাত্রা করে। এরপর রাত সোয়া ৮টায় তাসফিয়াকে নেভালে পাথরের ওপর একাকী বসে থাকতে দেখা গেছে।

তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পরও পুলিশ সিএনজি অটোরিকশার নম্বর পেতে ব্যর্থ হয়েছে। অটোরিকশাটি চিহ্নিত করতে পারলেও প্রতিটি ফুটেজে অতিরিক্ত আলোর কারণে নম্বরটি পাওয়া যায়নি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here