স্বামী-স্ত্রী উভয়ের কাছেই বিয়ের প্রথম রাত্রিটি একটি বিশেষ কিছু। কিন্তু তাতেও যদি নোংরামির জাল বিছাতে ছাড়েনি একটি চক্র। পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মিরপুরে এক দল প্রতারক বিয়ের নামে কিছু তরুণীর এমন সর্বনাশ করেছেন যে, তার ক্ষতিপূরণ হওয়ার নয়।

এসব প্রতারক সেসব তরুণীকে বিয়ে করে নিজেদের বাসররাতের ক্রিয়াকলাপ ভিডিও করতো। তারপর সেসব দেখিয়ে শুরু হতো প্রতারণা। এরপর ইন্টারনেটে সেই ভিডিও প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে স্ত্রীদের নানা অবৈধ কাজ করতে বাধ্য করতো তারা।

জানা গেছে, এসব প্রতারক প্রথমে নিজেদের ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী পরিচয় দিয়ে অবিবাহিত নারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলতো। এরপর যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করত। বিয়ের পর বাসররাতের ভিডিও করতো স্বামী। স্ত্রীরা সরল বিশ্বাসেই সেই ভিডিওতে সায় দিতেন।

সম্প্রতি কাশ্মীরের মিরপুরের স্থানীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। তাতেই প্রতারণার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এই কায়দায় ১৫ জনেরও বেশি তরুণীর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বাসররাতের ভিডিওচিত্র প্রকাশের হুমকি দিয়ে তাদের বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সরবরাহের মতো অবৈধ কাজ করতে বাধ্য করা হতো। এ ছাড়া ওই তরুণীদের ওপর যৌন নির্যাতনও চালানো হতো।

গণমাধ্যম বলছে, প্রতারক চক্রের নেতৃত্বে ছিল মুমতাজ নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে ব্রিটিশ-পাকিস্তানি বলে পরিচয় দিতেন। মুমতাজ নিজেও একাধিক তরুণীর সঙ্গে এভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। বিয়ের পর এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা সদ্য বিবাহিত স্ত্রীদের যুক্তরাজ্যে নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানাতেন। কোনো তরুণী তালাক চাইলেও দেওয়া হতো না। তখন স্ত্রীদের বিরুদ্ধে চুরির মিথ্যা মামলা দেওয়া হতো।

এভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে এক মুমতাজই পাকিস্তানের মিরপুরের সাতজন তরুণীকে বিয়ে করেছিলেন। মুমতাজের পরিবারের দুই সদস্যও এই বিয়ে কেলেঙ্কারির ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বর্তমানে পলাতক। প্রতারণার শিকার নারীদের অভিযোগ, অনেক নারীকে বিয়ের পর পাচার করার চেষ্টাও করত প্রতারকেরা।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here