এক নারীর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নিয়ে পুরো সিলেট তোলপাড়। আর হবেই বা না কেন, এতে এমন ব্যক্তির নামে অভিযোগ করা হয়েছে, যিনি সবারই পরিচিত। সবাই ডাকে কটাই মিয়া। সিলেটি ভাষায় ‘ব্যঙ্গাত্মক’ ভাবে এ নামে ডাকলেও তার মূল নাম সাহেদ মোশারফ। এ কটাই মিয়ার বিরুদ্ধেই জিডিটি করেছেন তার প্রেমিকা মিলি বেগম।

গত শুক্রবার নগরীর কোতোয়ালি থানায় করা ওই জিডির মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে মিলি ও সাহেদের দীর্ঘ দিনের প্রেমের সম্পর্কের নানা গল্প। শুধু প্রেম নয়, তারা নাকি স্বামী-স্ত্রীর মতো দিনের পর দিন কাটিয়েছে। মিলি বেগম সিলেট নগরীর খাসদবির আবাসিক এলাকার মৃত আব্দুল হেকিমের মেয়ে।

তিনি জিডিতে উল্লেখ করেছেন, প্রায় ৭ বছর আগে সাহেদ ওরফে কটাইয়ের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানে তার পরিচয় হয়। এর পর তাদের মধ্যে ভাব জমে। সেই থেকে প্রায় সময় মোবাইল ফোনে আলোচনা ও ভাব বিনিমিয় করেন। একপর্যায়ে মিলির সঙ্গে গভীর প্রেমে জড়িয়ে পড়েন সাহেদ। এ সম্পর্কের সূত্র ধরে মিলিকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। এমনকি নিজের পরিবারের কাছে তাকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করে দেন।

এর পর সাহেদ ওরফে কটাই মিলিকে জানান, ছোট বোন সালমাকে বিয়ে দেওয়ার পরপরই তাকে বউ করে ঘরে তোলবেন। এসব বলে ভুলিয়ে ভালিয়ে বিভিন্ন সময় নিজ বাড়িতে নিয়ে গিয়ে নানা কৌশলে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। স্বামী-স্ত্রীর মতোই তারা রাতের পর রাত কাটিয়েছেন।

মিলি আরো জানান, ২০১৩ সালে সাহেদ ব্যবসার কথা বলে তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ঋণ নেন। তার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক থাকার কারণে ওই বছরের ১০ জানুয়ারি নিজের মনের মানুষটার হাতে সেই টাকা তুলে দেন। এ সময় তার সঙ্গে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- দরগাহ গেইটের টিপু বেগমের স্ত্রী বৃষ্টি ও নয়াসড়কের সবুজের স্ত্রী সামিনা ইসলাম মৌ। ঋণ হিসেবে পরে আরো দুই লাখ টাকা দেন মিলি।

এদিকে কয়েক মাস আগে থেকে কটাই তার সঙ্গে বিয়ে নিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। এতে বিমর্ষ হয়ে পড়েন মিলি বেগম। পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিলে কৌশলে বিয়ে ও টাকা পরিশোধের বিষয়টি এড়িয়ে যান। একপর্যায়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে দিয়ে দেওয়ারও আশ্বাস দেন। কিন্তু না দিয়ে বার বার কালক্ষেপণ করতে থাকেন।

মিলি জানান, গত ২০ এপ্রিল বিকেল ৩টার দিকে বন্দরবাজারের সুরমা পয়েন্টে কটাইকে পেয়ে চাপ দিলে টাকা নেওয়ার বিষয়টা পুরোপুরি অস্বীকার করেন। উল্টো তাকে হুমকি দিয়ে বলেন- ‘টাকা চাইলে তোকে খুন করে ফেলবে।’

তবে মিলির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সাহেদ আহমদ ওরফে কটাই বলেন, ‘মিলিকে আমি চিনি। তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের সম্পর্ক। কখনো তার সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক ছিল না। কিংবা তার সঙ্গে গভীর কোনো সম্পর্কেও জড়াইনি। সব সময় বন্ধু হিসেবে সম্পর্ক রেখেছি এবং বন্ধু-বান্ধবদের মতো আড্ডা দিয়েছি। তার কাছ থেকে কোনো টাকাও নেইনি।’

এদিকে মিলির অভিযোগটি জিডি আকারে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গৌসুল হোসেন।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here