বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। যা বাড়তে বাড়তে ৯১ দশমিক ৩৪ শতাংশে উন্নীত হয়। কিন্তু ২০১৫ সালের পর তা নামতে শুরু করে। এ বছর সেটা ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। তবে বিষয়ভিত্তিক ইংরেজি ও গণিতে ফল খারাপ হওয়ায় সার্বিক ফলে প্রভাব পড়েছে।

ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৯ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। পরের বছর ৭৯ দশমিক ৯৮, ২০১১ সালে ৮২ দশমিক ৩১, ২০১২ সালে ৮৬ দশমিক ৩৭, ২০১৩ সালে ৮৯ দশমিক ০৩। ২০১৪ সালে সেটা গিয়ে দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ৩৪ শতাংশে। ২০১৫ সালে অবশ্য নেমে যায় ৮৭ দশমিক ০৪ শতাংশে। ওই বছর ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় বিএনপি-জামায়াত হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিকে। পরের বছর ফল বিপর্যয় কাটিয়ে ফের সূচকের ঊর্ধ্বগতির পিরামিড হয় ৮৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। গত বছর সেই সাফল্যের সূচক আছড়ে পড়ে (৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ)। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে পাসের হার দাঁড়ায় ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশে।

প্রকাশিত ফলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। মোট পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ পরীক্ষার্থী। সারাদেশে অকৃতকার্য ৪৫ হাজার ৪৭০ শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু থেকে ফল প্রকাশ পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁস ছিল বেশ আলোচিত বিষয়। খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও অন্তত ১২ বিষয়ের নৈর্ব্যত্তিক প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মেলে। তবে সরকার দাবি করেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুবিধাভোগী মাত্র ৫ হাজার শিক্ষার্থী।

মাধ্যমিকের ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে সরকার মনে করছে, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করায় ফলের সূচকে প্রভাব পড়েছে।

পাসের হার কমা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এবার যেহেতু পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও বেশি, সংখ্যার হিসাবে পাসের হার কিছুটা কম মনে হলেও সেটা খুব হতাশাজনক নয়। কারণ ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ পাস করা, এটাও কিন্তু কম কথা নয়।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, খাতা দেখার অতীতের যে ত্রুটি ছিল, সেগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার ফলে একটা মান আমরা অর্জন করেছি। তবে আরও উন্নত করতে হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

দুপুরে নিজ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, গত বছরের মতো উত্তরপত্র মূল্যায়নে অবমূল্যায়ন বা অতিমূল্যায়ন রোধে বোর্ডগুলো বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধান পরীক্ষকদের উত্তরমালা প্রণয়নের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রণীত নমুনা উত্তরমালার আলোকে উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরীক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের গুণগতমান যাচাইয়ে একটি প্রশ্নমালা সব প্রধান পরীক্ষককে সরবরাহ করা হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ফলের সূচকে।

বিষয়ভিত্তিক (গণিত, ইংরেজি) ফল খারাপ হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে গড় ফলেÑ এমনটাই জানিয়েছেন বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা। বিশেষ করে মাদ্রাসা বোর্ডে গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। একমাত্র কুমিল্লা বোর্ড ছাড়া সবার ফলে গত বছরের তুলনায় ধস নেমেছে।

গত ১ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার তত্ত্বীয় এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছিল ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ শিক্ষার্থী।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here