বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের বানপাড়া গ্রামের হেমন্ত রায়ের মেয়ে ভূমিকা রানীর আশা ছিল এসএসসিতে ‘এ প্লাস’ পাবে। এ নিয়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগের রাতে উত্তেজনায় ঘুমাতেও পারেনি সে। কিন্তু গত রোববার ফল আনতে গিয়ে ভূমিকা দেখে জিপিএ-৫ নয়, সে পেয়েছে ৩.৬১। এই ফল দেখেই চূড়ান্ত হতাশ এবং ভেঙ্গে পড়েছিল সে।

শেষ পর্যন্ত হতাশা সইতে না পেরেই সোমবার ভোরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে।

ভূমিকার বাবা হেমন্ত রায় জানান, তার মেয়ে নিজপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। রোববার ফল প্রকাশের পর জানা যায় ভূমিকা ৩.৬১ পেয়ে পাস করেছে। ফলাফলে সে খুশি না হওয়ায় বেশ কান্নাকাটি করে। আমরা তাকে বুঝিয়ে শান্ত করি। এরপর সে রাতে ভাত খাওয়ার পর নিজ ঘরে ঘুমাতে যায়। সোমবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে গোয়াল ঘরে গরু বের করতে গিয়ে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই। আমার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। পরে পুলিশকে সংবাদ দেয়া হলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

বীরগঞ্জ থানার ওসি শাকিলা পারভীন জানান, মেয়েটি আবেগ তাড়িত হয়ে আত্মহত্যা করেছে। এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ নিয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে ফলাফলে সন্তুষ্ট হতে না পেরে বিরল উপজেলার বড়বদ্যনাথপুর গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে তুহিন (১৬) ঘুমের ওষুধ খেয়ে, শহরের সুইহারী চৌরঙ্গী সিনেমা হল এলাকার ফজলুর রহমানের মেয়ে আশা মনি (১৭) হারপিক খেয়ে ও বালুবাড়ী এলাকার বাছিরের মেয়ে সুনিতা (১৬) ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরিবারের লোকজন জানতে পেরে তাদেরকে রোববার সন্ধ্যায় দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here