ভালোবাসার এক অনবদ্য ভাষাহীন প্রকাশ চুম্বন। সে কথা রোমান কবি পেত্রোনিয়াস বুঝেছিলেন বহু আগেই। শুধু পেত্রোনিয়াস কেন, ভালোবাসার আবেগঘন এই মাধ্যমটির মাহাত্ম্যের কথা যুগ যুগ ধরে স্বীকার করে এসেছেন বহু বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। নিবিড় আলিঙ্গন আর উষ্ণ ঠোঁটের মিলনে পূর্ণতা পায় প্রেম। সে কথা আলাদা করে আজ আর বলার অপেক্ষা রাখে না। হৃদয়ের গভীরতম তলদেশে নিহিত বিশেষ মানুষের প্রতি অদম্য ভালোবাসার প্রতীকী রূপ চুম্বন।

কিন্তু ঠিক কবে থেকে মানুষ ভালোবাসা প্রকাশে চুমু দেওয়া শিখলো, তা নিয়ে আছে মতভেদ। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, চুমুর ইতিবৃত্ত জানতে গেলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে প্রাগৈতিহাসিক যুগে।

যে যুগে আদিম মানুষ জানত না ভাষার ব্যবহার। আড়ম্বরের সঙ্গে সভ্য মানুষের মতো তারা জানাতে পারত না তাদের অনুভূতির কথা। তা বলে কি তাদের মধ্যে ঘাটতি ছিল প্রেম ভালোবাসার? একেবারেই তা নয়। বরং নির্বাক সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ছিল বড়ই আন্তরিক, আদরের মাখামাখি।

আদিম যুগে জঙ্গল থেকে শিকার করা বা সংগ্রহ করে আনা খাদ্য সকলে মিলে ভাগ করে খেত গোষ্ঠীবদ্ধ মানুষ। তখন আগুনের ব্যবহারও জানা ছিল না তাদের। ছোট্ট দুধের শিশুকে শক্ত সেই খাবার খাওয়াতে সমস্যায় পড়তেন মা। হজম হয় না এমন খাবার খাইয়ে তো আর সন্তানকে বিপদে ফেলতে পারেন না তিনি।

আবার মায়ের বুকের দুধের বাইরে অন্য খাবার না খেলে অসুস্থ হয়ে পড়বে শিশু! কি উপায়ে কাঁচা ফল, সবজি বা মাংস শিশুকে খাওয়ানো যায় তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান মায়েরা। একসময় মাথায় দারুণ বুদ্ধি খেলে যায় তাদের। সংগ্রহের খাবার প্রথমে মুখে নিয়ে ভালো করে দাঁত দিয়ে চিবিয়ে নরম করে ফেলেন মা। সেই চিবানো নরম খাবার ঠোঁট দিয়ে শিশুর মুখের মধ্যে প্রবেশ করান তিনি। খাবার বিনিময়ের ছলে এভাবেই মা ও সন্তানের অধরে অধরে স্পর্শের হাত ধরে জন্ম নেয় প্রেমময় চুম্বন। সম্ভবত এভাবেই চুমুর উদ্ভব।

যদিও যিশু খ্রিস্টের জন্মের ২০০০ বছর আগের ইতিহাস জানাচ্ছে অন্য এক চুম্বন তত্ত্বের কথা। সে সময় পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশে প্রচলিত ছিল এক অদ্ভুত ধর্মীয় প্রথা। দু’জন মানুষের ঠোঁটসহ মুখাবয়ব নিবিড়ভাবে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে নাকি মানব শরীরের আত্মার একত্রীকরণের পথ সহজ হয়ে ওঠে। এই বিশ্বাসে আত্মায় আত্মায় সঙ্গম ঘটাতে দুই জন মানুষ একে অপরকে চুম্বন করতেন। সেই রীতিই কালক্রমে ভারত, রোম, রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জনগোষ্ঠীর জীবনে উত্‍সবে পরিণত হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here