ইরানের সঙ্গে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সই হওয়া পরমাণু সমঝোতা থেকে অবশেষে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে (ওয়াশিংটন সময় বিকাল ৪টা) হোয়াইট হাউস থেকে তিনি এ ঘোষণা দেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেরকে রার লক্ষ্যে এ সমঝোতা সই হয়েছিল। কিন্তু এর ফলে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার সুযোগ পেয়েছে। এ সমঝোতা অক্ষুণ্ন থাকলে অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হবে বলে তার দাবি।

ট্রাম্প এও বলেন, আমি কিছুণের মধ্যেই ইরানের ওপর কঠোরতম অর্থনেতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশে সই করব।

ইরানের সঙ্গে ছয় জাতির পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে উত্তাপ। ক্ষমতায় আসার পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প এ চুক্তির কড়া সমালোচনা করেন। বেশ কিছু দিন ধরে তিনি বলে আসছিলেন- ২০১৫ সালের ওই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র আর থাকছে না। এ নিয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল আগামী ১২ মে। কিন্তু গত সোমবার এক টুইটে ট্রাম্প জানান, মঙ্গলবারই তিনি ইরানের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা পেশ করবেন।

২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক এ চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানি। ওই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, ইরানের ওপর পশ্চিমাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, তার বদলে পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে রাজি হয় ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের ওই সময়ের ওবামা প্রশাসন এতে স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই এ চুক্তিকে ‘ধ্বংসাত্মক ও আত্মঘাতী’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

বিবিসির ওয়াশিংটন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছেন। এ ছাড়া তেহরানের কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপরও এ নিষেধাজ্ঞা আসছে, যা ইরানের পারমাণবিক চুক্তিকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ঠ।

এদিকে গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, আগামী কয়েক মাস হয়তো তার দেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হবে কিন্তু তা দ্রুতই কাটিয়ে ওঠবে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়, তা হলে দেশটিকে ঐতিহাসিক অনুতাপ পোহাতে হবে।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চুক্তিতে রাখতে ইউরোপের দেশগুলোর নেতারা সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পকে চুক্তিতে রাখতে প্রচেষ্টা চালান। এর পর একই ইস্যু নিয়ে যান জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। সর্বশেষ চলতি সপ্তাহেই যান যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবিস জনসন। তিনিও ট্রাম্পকে চুক্তিতে থাকতে অনুরোধ করেন। এই ইউরোপীয় নেতাদের ভাষ্য- এ চুক্তিটি হয়তো যথেষ্ট নয় কিন্তু এ সময়ে ইরানকে বাগে রাখতে এ চুক্তির বিকল্প নেই।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here