তরুণ বয়সে প্রচন্ড শক্তিশালী সনু মিয়ার সবকিছুই ছিল। স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে নিয়ে দিনমজুর সনু মিয়ার সংসারে আনন্দের কমতি ছিল না। অথচ ৮৫ বছর বয়সী সনু মিয়ার এখন কিছুই নেই। নিঃসঙ্গতাই তার একমাত্র সম্বল।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের বাঘড়ি বাজার সংলগ্ন একটি ঝুপড়ি ঘরে সনু মিয়া একাকি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাইতো অসহায় সনু মিয়া খোঁজ করছেন একটি বৃদ্ধাশ্রমের। যেখানে অন্তত বিনা চিকিৎসায় একা একা মরতে হবে না। কথা বলার কেউ থাকবে। জীবনের শেষ দিনগুলো একটু শান্তিতে কাটবে তার।

অশ্রুশিক্ত সনু মিয়া বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলে তার বউ-বাচ্চা নিয়ে ঢাকায় থাকে। মানুষিক ভারসাম্যহীন একমাত্র মেয়ে থাকে তার স্বামীর বাড়িতে। দুই বছর আগে স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এখন আমি একা। আমার খাবার আমাকেই রান্না করে খেতে হয়। কোন দিন খাওয়া হয় কোনদিন হয় না। অসুস্থ হলে দেখার কেউ নেই আমার।

সনু মিয়া আরও বলেন, ‘আমার মত অসংখ্য অসহায় বৃদ্ধ রয়েছে দেশে। এই বৃদ্ধদের জন্য সরকারের কিছু করা উচিত। শুধুমাত্র বয়স্ক ভাতা দিয়েই সরকার দায়িত্ব শেষ করছে। ব্যক্তি উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃদ্ধাশ্রম থাকলেও আমাদের এলাকায় তা নেই। তাই খোদাই এখন আমার একমাত্র ভরসা।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সনু মিয়া বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আমার দূরাবস্থার কথা জানিয়েছি, কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।’

সনু মিয়ার প্রতিবেশী সাংবাদিক রহিম রেজা বলেন, ‘সনু মিয়ার একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই দরকার। এই বৃদ্ধ মানুষটির জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত।’

এ বিষয় রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা বেগম পারুল বলেন, ‘সনু মিয়ার কথা শুনে তার বাড়িতে গিয়েছি। জেলা প্রসাশকের নির্দেশে টিন দিয়ে ঘর করে দেয়া হচ্ছে। আমাদের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা তা করব।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here