সরল বিশ্বাসে ফিল্টারের পানি বলে দোকান থেকে যা কিনে খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ, তা কতটুকু পরিশোধিত সেটির নমুনা দেখলে যে কারও ঘৃণা লাগবে। গতকাল তেজগাঁও রেলস্টেশন মার্কেটে খোঁজ মিলেছে এমনই তথাকথিত ফিল্টার করা পানি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের। তেজগাঁও রেলস্টেশন মার্কেটের স্যাঁতসেঁতে নোংরা একটি কক্ষে টয়লেট আর ময়লার স্তূপের পাশে বড় তিনটি ট্যাংকি থেকে প্ল্যাস্টিকের জারে ওয়াসার কলের পানি ভরে যা বিক্রি করা হতো।

গতকাল দুপুরে বিএসটিআই ও র‌্যাবের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই মার্কেটে অভিযানে গিয়ে এই কারখানার পাশাপাশি আরও দুটি অবৈধ পানির কারখানার সন্ধান পায়, যেগুলোর কোনোটিরই অনুমোদন নেই। সবগুলো কারখানায়ই নোংরা পরিবেশে জারে পানি ভরে তা বিক্রি করা হচ্ছিল।

জানা গেছে, র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত সকালে প্রথমে তেজগাঁওয়ের ৫১/এ দক্ষিণ কুনিপাড়ার ‘ফিউচার ফুড বেভারেজ’ নামে একটি কারখানায় যায়। সেখানে কোনো অনুমতি ছাড়াই ওয়াসার লাইন থেকে পানি নিয়ে পরিশোধন ছাড়া জারে ভরে বিক্রি করা হচ্ছিল।

র‌্যাবের অভিযানে ধ্বংস করা পানি ও জার

অবৈধভাবে অপরিশোধিত পানি বাজারজাত করার অপরাধে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্বাসউদ্দিন দীপুকে ছয় মাসের জেল দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিষ্ঠানটিও সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

এরপর কুনিপাড়ার ‘জাহাঙ্গীর ট্রেড ইন্টারন্যাশনালে’ যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেখানে গভীর নলকূপ থেকে তোলা পানি পরিশোধন ছাড়াই জারে ভরে বিক্রি করা হয়। এ কারণে ওই কারখানার মালিক মো. জাহাঙ্গীরুল ইসলাম ও মাহমুদ হাসান মাসুদকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

পূর্ব নাখালপাড়ার ‘কোল্ড এভারেস্ট’ নামের কারখানাটির অনুমোদন নেই। এই কারখানায়ও নোংরা পরিবেশে অপরিশোধিত পানি জারে ভরে বিক্রি করা হচ্ছিল। এ কারণে কারখানা মালিক এফ এম নাসির উদ্দিনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে কারখানা।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটারই অনুমোদন নেই। ওয়াসার পানি জারে ভরে বিক্রি করছে। কারোই পানি শোধনের যন্ত্রপাতি নেই। এক জায়গায় দেখলাম, টয়লেটের পাশেই জারে পানি ভরছে। আরেক পাশে ময়লা আবর্জনা রাখা। এই পানি স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here