চুল পড়ে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। যারা এই সমস্যায় ভোগেন তারা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিব্রত বোধ করেন। বিশেষ করে যুবক বয়সে চুল পড়ে যাওয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিব্রত বোধ করেন মানুষ। অতিরিক্ত ক্ষয় ও নানারকম নিম্নমানের কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে চুল দুর্বল হয়ে যায়। তা ছাড়া বিভিন্ন দূষণ, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অসুখ কিংবা ব্যক্তিগত কারণে নানান বয়সের মানুষের চুল পড়ে যাচ্ছে। তবে টাক মাথায় চুল গজানোর এক নতুন চিকিৎসা নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষকরা বলছেন, হাড়ের ক্ষয়রোধে ব্যবহার হয় এমন একটি ওষুধ মাথার চুল পড়া ঠেকানোর এক নতুন চিকিৎসা হয়ে ওঠতে পারে। অস্টিওপোরোসিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ সাইক্লোস্পোরিন নিয়ে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করার সময় দেখা গেছে, এটি চুলের গোড়ার ওপর ‘নাটকীয়’ প্রভাব ফেলে।

গবেষণা দলের প্রধান ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ন্যাথান হকশ বলেন- যেসব লোক মাথার চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যায় আক্রান্ত, তাদের চিকিৎসায় এটি এক বড় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। আসলে মানুষের দেহে এমন এক প্রোটিন আছে, যা চুলের বৃদ্ধি আটকে দিতে অনেকটা গাড়ির ব্রেকের মতো কাজ করে। সাইক্লোস্পোরিন ঠিক এ প্রোটিনটিকেই আক্রমণ করবে।

বর্তমানে চুল পড়ার চিকিৎসার জন্য এখন মাত্র দুটি ওষুধ প্রচলিত আছে। একটি হচ্ছে মিনোক্সিডিল, যা পুরুষ ও নারী সবাই ব্যবহার করতে পারেন, আর অন্যটি ফিনাস্টেরাইড- এটি কেবল পুরুষের জন্য। তবে এগুলোর কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। আবার সবার ক্ষেত্রে কার্যকরও হয় না। তাই যাদের টাকা আছে তারা টাক ঢাকতে চুল প্রতিস্থাপনের মতো পন্থার আশ্রয় নেন। আর এ চিকিৎসা যথেষ্ট কষ্টদায়ক।

নতুন আবিষ্কার নিয়ে ড. হকশ বলেন, সাইক্লোস্পোরিন চুল পড়ার চিকিৎসায় কতটুকু কার্যকর এবং নিরাপদ, তা বের করতে একটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা দরকার হবে। তবে আশাবাদী গবেষক দলটি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here