২০০৬ সালে লাক্স সুন্দরী হয়েই ‘দারুচিনি দ্বীপ’ ছবিতে অভিনয় করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন জাকিয়া বারি মম। প্রথম ছবিতেই সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার। এরপর বাংলাদেশের সিনেমা ও টেলিভিশন জগতের প্রথম সারির অভিনেত্রীদের একজন তিনি। ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিতেও তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। সর্বশেষ আবার আলোচনায় এসেছেন ‘আলতা বানু’ ছবি দিয়ে। সম্প্রতি মম প্রথমবার কলকাতায় শ্যুটিং করলেন ‘গানচিল’ প্রযোজিত মিউজিক ভিডিও ‘বাড়াবাড়ি’। সেখানেই তিনি কথা বলেছেন পশ্চিমবঙ্গের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে।

প্রশ্ন: তোমার তো নতুন ছবি মুক্তি পেল, ‘আলতা বানু’। কলকাতায় বসে দেখার তো উপায় নেই। এই যে এখানকার দর্শক দেখতে পান না তোমার কাজ, খারাপ লাগে না?

মম: খুব খারাপ লাগে। অনেকে কলকাতা থেকে টেক্সট করেন, বা সোশ্যাল মিডিয়াতেও আমাকে অনেকে বলেন যে তাঁরা আমার কাজ দেখতে চান। পরে যখন ছবিগুলি ইউটিউবে আপলোড করা হয়, তখন দেখতে পান অবশ্য। কিন্তু একটু দেরি হয় এই যা।

প্রশ্ন: গানচিল এর ‘বাড়াবাড়ি’ মিউজিক ভিডিওটি তাহলে বলতে গেলে তোমার কাজের ক্ষেত্রে প্রথম কলকাতা কানেকশন। প্রজেক্টটা না হয় বাংলাদেশের কিন্তু কলকাতায় এসে শ্যুটিং এবং এপার বাংলার একজন তারকার সঙ্গে কাজ করা…

মম: হ্যাঁ, একেবারেই তাই।

প্রশ্ন: কেমন লাগল রাজদীপের সঙ্গে কাজ করে?

মম: দারুণ। হি ইজ সাচ আর নাইস পার্সন।

প্রশ্ন: রাজদীপ কিন্তু প্রচণ্ড লেগপুল করে কো-অ্যাক্টরদের, ইউনিট মেম্বারদের…

মম: হা হা হা, না না আমার ক্ষেত্রে তেমনটা কিছু হয়নি। আমাকে তো খুবই সমীহ করেছে। হয়তো হতে পারে যে প্রথমবার কাজ করছি বলে। তবে কো-স্টার হিসেব ও খুব ভাল। আমার এমনিতে এখানকার কো-স্টারদের সঙ্গেও খুব ভাল জেলিং হয়ে যায় কাজের সময়। আমার মধ্যে মেয়েলিপনাটা একটু কম তো, তাই ছেলেদের সঙ্গে বন্ধুত্বটা বেশ জমে।

প্রশ্ন: ‘বাড়াবাড়ি’-র শ্যুটিং ছাড়া এর আগে কলকাতা এসেছ নিশ্চয়ই…

মম: হ্যাঁ, অনেকবার বেড়াতে এসেছি বা শপিং করতে এসেছি। বরং এই মিউজিক ভিডিওর শ্যুটিংয়ের সময় একটুও শপিং করতে পারিনি। এই প্রথম আমি কলকাতা ছেড়েছি কোনও শপিং না করে। সেটা সত্যিই খুব বাড়াবাড়ি হয়েছে। আমি তো অংশু মানে আমাদের ডিরেক্টরের উপর মেজাজও খারাপ করেছি তার জন্য়। তবে ওরও কিছু করার ছিল না। আমি নিজেই খুব টাইট স্কেডিউলে ছিলাম।

প্রশ্ন: কলকাতার কোন জিনিসটা তোমার ‘বাড়াবাড়ি’ লাগে?

মম: কলকাতা নিজেকে এখনও খুব ‘অ্যান্টিক’ করে রেখেছে, সেটা আমার বাড়াবাড়ি রকমের ভাল লাগে। তার সাহিত্য, সিনেমা, শিল্প, এস্থেটিকস, সবকিছুই খুব সুন্দর করে ধরে রেখেছে। আর কলকাতায় প্রচুর সিনেমা হল, সেটা আমার খুব ভাল লাগে। কলকাতাকে আমার খুব হ্যাপেনিং মনে হয়।

প্রশ্ন: কলকাতাকে এত ভালবাসো যখন তখন এখানকার ছবিতে কাজ করার ইচ্ছে নেই?

মম: অবশ্যই রয়েছে। অরিন্দমদার (অরিন্দম শীল) সঙ্গে কাজ করার সুযোগ এসেছিল একবার। শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি কিছু কারণবশত কিন্তু আই উড লাভ টু ওয়র্ক ইন টলিউড।

প্রশ্ন: এপারের বাংলা সিনেমা দেখা হয় নিয়মিত?

মম: খুব নিয়মিত না হলেও সুযোগ পেলেই দেখি। এখানকার কনটেন্ট-বেসড ছবি আমার খুব ভাল লাগে। বাংলাদেশেও এখন এই ধরনের ছবি হচ্ছে অনেক। আমার সাম্প্রতিক ছবি ‘আলতা বানু’-ও একটি কনটেন্ট-বেসড ছবি। কলকাতায় যদি তেমন কোনও ছবি করতে পারি তবে খুবই ভাল লাগবে।

প্রশ্ন: এখানকার টেলিভিশন কনটেন্ট কেমন লাগে?

মম: ওপার বাংলার টেলিভিশন আমার একটু মেলোড্রামাটিক লাগে, টু বি ভেরি অনেস্ট। আমাদের দেশে বরং টেলিড্রামাগুলি অনেকটা বেশি বাস্তবসম্মত।

প্রশ্ন: কিন্তু ধারাবাহিক এবং টেলিছবির মেজাজ তো আলাদাই হয়। আমাদের এখানেও তো টেলিছবি হয় আবার ডেইলি সোপও হয়।

মম: হ্যাঁ ঠিকই কিন্তু বাংলাদেশে দর্শক এখন অনেক বেশি টিভি নাটক দেখতে পছন্দ করেন। ডেইলি সোপ নেই তা নয়। তবে আমার তো টিভি ড্রামাই বেশি ভাল লাগে।

প্রশ্ন: তুমি তো ড্রামা নিয়ে পড়াশোনা করেছ। ছোটবেলা থেকেই কি ঠিক করেছিলে যে অভিনেত্রী হবে?

মম: আমি তিন-চার বছর বয়স থেকেই নাচ-গান-আবৃত্তি সব শিখেছি একসঙ্গে। আমার বাড়ি ছিল ঢাকা থেকে একটু দূরে, ব্রাহ্মণবেড়িয়াতে। দশ বছর বয়স থেকে ঢাকায় এসেই নাচটা শিখতে শুরু করি। মোটামুটি তখন থেকেই আমি ঠিক করি যে অভিনেত্রীই হব। আমি লাক্স-এর মডেল ছিলাম। বিজ্ঞাপনও করেছি কিন্তু ধ্যানে-জ্ঞানে অভিনেত্রীর জীবনই আমি চেয়েছিলাম।

প্রশ্ন: হাতে সময় থাকলে কী করো, প্রিয় হবিজ?

মম: আমার গান শুনতে খুব ভাল লাগে, খুব ইন্সপায়ার করে আমাকে মিউজিক। এছাড়া মুভিজ দেখি।

প্রশ্ন: রান্না করতে ভাল লাগে?

মম: হ্যাঁ রান্না তো আমি রোজই করি।

প্রশ্ন: রোজ? তোমার এই শ্যুটিং সামলে?

মম: হ্য়াঁ বাড়ির সবাই আমার হাতের রান্না খেতে ভালবাসে। মোটামুটি প্রতিদিনই কিছু না কিছু রান্না করি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here