মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরের চান্দহুর ইউনিয়নের চর চামটা গ্রামের শামীমা আক্তার (ছদ্মনাম)। ভ্যানচালক বাবা বহু কষ্ট করে শামীমাসহ তিন ছেলে মেয়েকে বড় করে তুলেছেন। সংসারে একটু স্বাচ্ছন্দ ফেরাতে ও বাবার কষ্ট লাঘবে ভাইবোনদের মধ্যে সবার বড় শামীমা বিদেশ গিয়ে কাজ করবেন বলে মনস্থির করেন। এরপর স্থানীয় আদম ব্যবসায়ী কাশেম আলীর সাহায্য নিয়ে ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর জর্ডানে পাঠানো হয় শামীমাকে। কথা ছিল সেখানে শামীমা বাসাবাড়িতে কাজ করবেন। কিন্তু তা না হয়ে জর্ডানে গিয়ে তাকে সহ্য করতে হয় বিভৎস নির্যাতন। হতে হয়েছে একাধিক পুরুষের লালসার শিকার।

অবশেষে নির্যাতিত, নিপীড়িত হয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরে এসেছেন তিনি। এখন তার শরীরের বিভিন্নস্থানে মারের চিহ্ন এছাড়া তিনি ৬ মাসের অন্তস্বত্ত্বাও।

কাঁদতে কাঁদতে সাংবাদিকদের কাছে তার ওপর নির্যাতনের লোমহর্ষক সব বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘মদ খাইয়া প্রতি রাইতে মারধর করতো। খুনতি দিয়া পিঠে ছ্যাঁকও দিছে। সারাদিন পায়ে শিকল দিয়া ঘরে আটকে রাখতো।’

শামীমা জানান, জর্ডানে যাওয়ার পর একটি বাসায় কাজ পান। তবে মালিকের ছেলে ছিল খুবই খারাপ। তাকে নানাভাবে নির্যাতন করতো। সেখানে যাওয়ার পরই বাড়ির মোবাইল নম্বরটি হারিয়ে ফেলায় বাড়িতেও বিষয়টি জানাতে পারেননি। এক মার্কেটে সোনিয়া আক্তার ওরফে রাবেয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নানাভাবে ফুঁসলিয়ে সোনিয়া তাকে ভালো কাজ দেয়ার কথা বলে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন। জর্ডানের দাম্মাম শহরের ওই ভাড়া বাসাটি যে পতিতালয় তা শামীমার বুঝতে সময় লাগেনি। তার মতো সেখানে আরও ৩০জন নারীকে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রতি বৃহস্পতিবার খদ্দের জোগার করে নিয়ে আসতো সোনিয়া। রাতে বসতো মদের আসর। জোর করে বাধ্য করা হতো যৌনমিলনে। তিনি প্রথমে রাজি না হওয়ায় তাকে বেধরক মারধর করেছে সোনিয়া। দিনের বেলায় পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হতো। একদিন নরক থেকে পালিয়েও গিয়েছিলেন। কিন্তু ধরা পড়ে গেলে আবারও তাকে নির্মমভাবে মারধর করে সোনিয়া। ভিডিও কলে শামীমাকে মারপিটের সেই দৃশ্য দেখানো হয় বাবা-মাকে। শামীমার পরিবার থেকে মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে চাপ দেওয়া হলে সোনিয়া তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। দুই মাস জেল খেটে গত ১৭ এপ্রিল দেশে ফিরেছেন তিনি।

শামীমা জানান, ১০ মাস তাকে বাসায় আটকে রেখে যৌনকাজে বাধ্য করা হলেও একটি টাকাও তুলে দেয়া হয়নি। শূন্য হাতেই তিনি বাড়ি ফিরেছেন। তিনি তার জীবনটা নষ্ট করার জন্য সোনিয়ার উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।

শামীমার মা জানান, বড় আশা করে মেয়েকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু মেয়ে নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন। শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। মেয়ের অনাগত সন্তান কার পরিচয়ে বড় হবেন তা নিয়েই বেশি দুশ্চিন্তা তার।

শামীমার বাবা জানান, বিদেশ থেকে মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে ফিরেছে। এলাকায় কানাঘোষা হয়। লজ্জায় বাড়ির বাইরে বের হতে পারেন না।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুছ সাদাত সেলিম জানান, ভিকটিমের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে আইনি এবং মানবিক বিষয়ে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here