‘আমি আজ অনেক বেশি মর্মাহত। বিজ্ঞ আদালতের প্রতি আমাদের যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। কিন্তু এই খুনী নরপিশাচের প্রতি দেওয়া আদালতের রায়ে আমি সম্পূর্ণরুপে অসন্তুষ্ট। আমি বলতে চাই, যেই ছেলে অপরাধ জগতের একটা গ্যাং পরিচালনা করতে পারে, একটি মেয়েকে মধ্যযুগীয় কায়েদায় নির্যাতনের পরে হত্যা করতে পারে, সেই ছেলেকে বয়সের দোহাই দিয়ে বিজ্ঞ আদালত কীভাবে এমন রায় দিতে পারেন…!’ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের স্কুলছাত্রী নিহত তাসফিয়া আমিনের (১৬) বাবা মোহাম্মদ আমিন।

তাসফিয়া হত্যার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত আদনান মির্জাকে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে সংশোধনী কেন্দ্রের পরিচালকের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করে ১০ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্যও পুলিশকে বলেছেন আদালত। কিন্তু আদালতের এ আদেশকে মেনে নিতে পারেননি মো. আমিন।

তিনি বলেন, আদালতের এমন আদেশ আমার বোধগম্য নয়। আমি প্রশাসন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, এই খুনীকে রিমান্ডে এনে আমার মেয়ের হত্যার সমস্ত যোগসাজস বের করে আনা হোক এবং খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দেওয়া হোক।

তিনি আরো বলেন, আমার মেয়ের খুনিদের শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে যেন এদেশে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়। আমার মেয়ের মত পরিণতি যেন অন্য কারো মেয়ের ভাগ্যে না হয়। আর কোনো বাব-মায়ের বুক যেন খালি না হয় আমার মত।

তাসফিয়া হত্যা ধামাচাপার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে আমিন বলেন, আপনারা আমার মেয়ের পাশে থাকুন। আজ অনেকে আমার মেয়ের হত্যাকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে যাচ্ছে। আপনারা সেসব গুজবে কান দিবেন না দয়া করে।

এদিকে তাসফিয়া হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ জানতে তার ‘ভিসেরা রিপোর্ট’ ঢাকার মহাখালী ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে বলে মামলার তদন্ত সূত্রে জানা গেছে। মেয়েটিকে খুন করা হয়েছে নাকি রক্তে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যু হয়েছে- তা উদঘাটন করতেই ঢাকার মহাখালী ল্যাবরেটরিতে এ রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। আর সেটা পেলেই হত্যার মূল কারণ জানা যাবে।

আলোচিত এ হত্যার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বেশির ভাগ আসামিকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি তাসফিয়া খুন হয়েছে নাকি আত্মহত্যা করেছে, তা নিয়েও সংশয় কাটেনি। রহস্যভেদ করতে পারেনি কার সঙ্গে সে পতেঙ্গা সৈকতে গিয়েছিল, তার খোয়া যাওয়া মোবাইল ও সোনার আংটি কার হাতে রয়েছে।

গত ২ মে নগরীর পতেঙ্গা সৈকত থেকে সানসাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদনে ওঠে আসে তার ওপর চালানো ভয়াবহ চিত্র। পিঠ, বুক ও গোপনাঙ্গসহ সব স্থানেই দেখা গেছে লোমহর্ষক নির্যাতনের ছাপ। গোলাকার মুখমণ্ডল থেঁতলানো। চোখ দুটো নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আর বুকের ওপর একাধিক আঁচড়ের দাগও দেখা গেছে। নিহতের হাতের নখগুলো ছিল নীলবর্ণ।

নিহত কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ স্কুলছাত্রীর ‘প্রেমিক’ নির্যাতনের পর হত্যা করে। এ ঘটনায় তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এতে আদনান মির্জাসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here