উড়তে গিয়েও মহাক্ষণের মাত্র ৬০ সেকেন্ড আগে কম্পিউটার জানিয়ে দিল, থামতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত ফ্যালকন-৯ রকেটটি প্রথম প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করতে পারল না। বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ উপগ্রহটি উৎক্ষেপণের জন্য শনিবার ভোররাতে আবার চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স।

যুক্তরাষ্ট্রের ফোরিডায় নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ উৎক্ষেপণ সফল হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব উপগ্রহের মালিক হবে। এ উপগ্রহের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবার সম্প্রসারণ সম্ভব। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় যোগ হবে নতুন মাত্রা।

মার্কিন বেসরকারি মহাকাশ পরিবহন সেবা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স তাদের ফ্যালকন-৯ রকেটের সর্বাধুনিক সংস্করণ ব্লক ৫-এর সাহায্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করছে। বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১২ মিনিটে প্রথমে সময় নির্ধারণ হয়। পরে তা পিছিয়ে ২টা ৪২ মিনিট করা হয়। এরপর ৩টা ৪৭ মিনিটে চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। উৎক্ষেপণের জন্য সর্বোচ্চ সময় ছিল ৪টা ২২ মিনিট।

টুইটার বার্তায় স্পেসএক্স জানায়, নির্ধারিত সময়ের ৩৫ মিনিট আগে তারা ‘স্বয়ংক্রিয় উৎক্ষেপণ’ বোতাম চালু করে। একই সময় জ্বালানি ও তরল অক্সিজেন ভরা শুরু করে। আগের সংস্করণগুলোয় এটা করা হতো উৎক্ষেপণের ৭৫ মিনিট আগে; কিন্তু মহামুহূর্তের মাত্র এক মিনিট আগে কম্পিউটারের ভেতর থেকে সংকেত আসে- কিছু একটা সমস্যা রয়েছে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে স্পেসএক্স জানায়, রকেট ফ্যালকন-৯ ‘ঝুঁকিহীন’ রয়েছে। তারা প্রথমে ১৫ মিনিটের নতুন কাউন্টডাউন ঘোষণা করে; কিন্তু ৪টা ২২ মিনিট আর বেশি দূরে ছিল না। ফলে এদিন উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ না করার সিদ্ধান্ত জানায় স্পেসএক্স।

আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল, প্রথম প্রচেষ্টা ভেস্তে গেলে পরের দিনই আবার চেষ্টা করা হবে। স্পেসএক্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোররাত ২টা ১৪ থেকে ৪টা ২১ মিনিটের মধ্যে তারা আবার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের চেষ্টা করবে।

তবে স্পেসফাইট নাউ নামের একটি মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, এদিন আবহাওয়া ৬০ শতাংশ ভালো থাকবে। প্রথমদিন এটা ছিল ৮০ শতাংশ।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

উৎক্ষেপণ দেখতে কেনেডি স্পেস সেন্টারে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। টেলিযোগাযোগ বিভাগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমান তথ্যপ্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও সেখানে ছিল। সেই দলে ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের জন্য আগেই রাশিয়ার ইন্টার স্পুটনিকের কাছ থেকে ২১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্ষপথ ভাড়া নেওয়া হয়। ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট পেয়েছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করা হয়েছে ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে। নির্মাণ, পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও হস্তান্তর শেষে বিশেষ কার্গো বিমানে করে সেটি কেপ কেনাভেরালের লঞ্চ সাইটে পাঠানো হয় গত ৩০ মার্চ।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here