ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার ৬১ বছরে এবারই প্রথম মতার পালাবদল হলো মালয়েশিয়ায়। আর জয়ের নায়ক সেই ডা. মাহাথির মোহাম্মদ। ৯২ বছরের বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক দীর্ঘ বিরতির পর নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেখালেন চমক। হলেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রধানমন্ত্রী। দেশকে দুর্নীতির কালো ছায়া থেকে রক্ষা করতেই এ বয়সে তার ফিরে আসা, জানিয়েছিলেন আগেই। প্রথম দফায় সুদীর্ঘ ২২ বছর দেশ শাসন করেন। তাও আবার বারিসান ন্যাশনাল (বিএন) থেকে নির্বাচিত হয়ে। এবার সেই দলের বিপক্ষে গিয়েও ছিনিয়ে এনেছেন বিজয়। প্রথমবারের মতো ক্ষমতার স্বাদ দিলেন বিরোধী পাকাতান হারপান (পিএইচ) জোটকে।

ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিজয়ের পর মালয়েশিয়ার সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মাহাথির মোহাম্মদ। দেশটির রাজপ্রাসাদে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় হওয়া শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজা সুলতান মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন। তবে পিএইচ জোট নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর দেশটির রাজার সঙ্গে দেখা করা নিয়ে প্রথমে কিছু জটিলতা তৈরি হয়। রাজকীয় প্রাসাদে পাঁচ ঘণ্টা অপোর পর শপথ নেন মাহাথির। রাজপ্রাসাদের কন্ট্রোলার ওয়ান আহমাদ দাহলান এবি আজিজ অবশ্য জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মাহাথিরের শপথগ্রহণে বিলম্ব সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে রাজপ্রাসাদ। মালয়েশিয়ার গণমাধ্যম স্টার অনলাইন এ খবর জানিয়েছে।

গত বুধবার মালয়েশিয়ার ১৪তম পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাহাথির নেতৃত্বাধীন পাকাতান হারপান (পিএইচ) জোট ২২২ আসনের মধ্যে ১২২টিতে জয়ী হয়। যদিও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১২ আসন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন নাজিব রাজাক নেতৃত্বাধীন বারিসান ন্যাশনাল জোট আসন পেয়েছে ৭৯টি। ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতার পর এই প্রথম দেশটির ক্ষমতা এ জোটের বাইরে গেল। এদিকে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক গতকাল জানান, তিনি নির্বাচনে জনগণের দেওয়া রায় মেনে নিয়েছেন।

রাজনৈতিক শিষ্য নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও বড় ধরনের দুর্র্নীতি কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠার পর মাহাথির মোহাম্মদ আবার রাজনীতিতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি অতীতে প্রধানমন্ত্রী এবং বারিসান ন্যাশানালের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮১ থেকে ২২ বছর ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ২০০৩ সালে তিনি মতা থেকে সরে দাঁড়ান। কিন্তু দুবছর আগে সবাইকে হতবাক করে দিয়ে জানান, দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তিনি এতটাই বিব্রত যে, তার পুরনো দল ছেড়ে দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে বিরোধী জোট পাকাতান হারাপানে যোগ দিচ্ছেন। পাকাতান হারাপানের অর্থ ‘আশার জোট’।

এদিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাস্তায় গোলযোগের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। মাহাথিরের সমর্থকরা রাতভর উল্লাস প্রকাশ করেছেন। কুয়ালালামপুরের কাছে বিজয়ী দলের প্রধান কার্যালয়ের বাইরের মাঠে দলীয় পতাকা হাতে সমর্থকরা জড়ো হয়। অভূতপূর্ব বিজয়ের পরই মাহাথির দুদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে বলেন, ‘এ ছুটি শুধু বিজয়ীদের জন্য নয়, গোটা দেশবাসীর জন্যই। আমরা কারো ওপর প্রতিশোধ নেব না। শুধু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here