নাটোর বড়াইগ্রাম উপজেলার কোয়েন বাজারে বৈশাখী মেলায় অশ্লীল নৃত্য ও লটারির নামে জুয়া খেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সাথে উচ্চ শব্দে মাইক বাজায় শিক্ষাদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে আয়োজক কমিটি।

নাটোর প্রেসক্লাবের উন্নয়নের জন্য বড়াইগ্রামের কোয়েন বাজারে মাসব্যাপী বৈশাখী মেলার জন্য গত ১১ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কাছে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন স্বাক্ষরিত আবেদন (স্মারক নং- না প্রে ০৮-১৮) করা হয়। পরে সেই আবদেনের পরিপ্রেক্ষিতে অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েন বাজার থেকে সামান্য দূরে পাচবাড়িয়া গ্রামের একটি পতিত জমিতে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা হয়েছে। সারাদিন কোন লোকের সমাগম না থাকলেও রাত ১০টার পর থেকেই ভিড় জমতে থাকে। ভিতরে ১০ থেকে ১৫টি জায়গায় বসছে জুয়ার আসর। সেখানে শত শত মানুষ ভিড় জমিয়ে জুয়ায় অংশ নিচ্ছে। একটু ভিতরেই চাঁদোয়া দিয়ে ছোট ছোট খোপ করা আছে; সেখানে মেয়েদের রাখা হয়। রাত ১২টা বাজলেই শুরু হয় অশ্লীল নৃত্য, শুরু হয় টাকার খেলা। সেখানে অর্ধনগ্ন হয়ে গুটি কয়েক মেয়ে নৃত্য করেন। যারা প্যান্ডেলে টাকা ছিটাতে পারে তাদেরকে ওই মেয়েদের সাথে নাচার সুযোগ করে দেয়া হয়। নাটোর প্রেসক্লাব মেলার আয়োজন করলেও মেলা চালাচ্ছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য বাচ্চু আলী ও রেজাউল আলম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, মেলায় সন্ধ্যা থেকে সারারাত মাইক বাজানো হয়। এতে তাদের পড়াশোনায় ব্যাহত হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সচেতন মহলের ব্যক্তিরা জানান, মাইকের উচ্চ শব্দে এলাকার মানুষের ঘুম হারাম হয়।

এ ব্যাপারে নগর ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান নিলুফার ইয়াসমিন ডালু জানান, মেলার নামে জুয়া আর অশ্লীল নৃত্য বন্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অনুরোধ করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। কেউ আমাদের সহযোগিতা করেননি। ইউএনওকে বলা হয়েছে যদি এসব জুয়া-অশ্লীল নৃত্য বন্ধে করতে না পারেন, তাহলে মানুষ কোথায় যাবো? এই মেলার কারণে সাংবাদিকের উপর মানুষ আস্থা হারাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাটোর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যাদেরকে কলম সৈনিক বলা হয় তারাও যদি দুর্নীতিগ্রস্থ হয় তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? এর চাইতে লজ্জার আর কিছু নাই। যারা জুয়ার টাকার ভাগ নেয় তাদের ধিক্কার জানানোর কোনো ভাষা নেই।

নাটোরের বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট খালিদ বিন জালাল বাচ্চু বলেন, সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমন নোংরা জিনিস প্রদর্শনের কারণে যৌন নির্যাতন বাড়ছে। যারা এসবের সাথে জড়িত তারা বিকৃত মানসিকতার মানুষ। তাদের মহান পেশায় থাকার কোনো যোগ্যতা নেই।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম বলেন, নাটোর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত প্রেসক্লাবের উন্নয়নের জন্য মেলার জন্য লিখিত আবেদন করা হয়। কিভাবে মেলার নামে অবৈধ জুয়া অশ্লীল নৃত্য চলছে এমন প্রশ্নের জবাবে শাহরিয়ার খান বলেন, ‘আপনারা সাংবাদিকরাই তো চালাচ্ছেন। মোটা অঙ্কের টাকা পেয়ে মেলা রিপোর্ট না করে সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের একার কি করার আছে।’

এ ব্যাপারে নাটোর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বারনইকে জানান, কোয়েন বাজারে বৈশাখী মেলায় জুয়া ও অশ্লীল নৃত্য হয় না। এব্যাপারে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here