বহুল প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক স্বপ্নযাত্রার শুরু হলো অবশেষে। প্রথমদিনের চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় দিনে মহাকাশে সফল উড্ডয়ন করল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। হাজারও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে, সব আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণিত করে ঠিকই সৃষ্টি হলো নতুন ইতিহাস।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল লঞ্চপ্যাড থেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরের নিজস্ব কক্ষপথে ছুটে গেলো স্যাটেলাইটটি। এ লঞ্চ কমপ্লেক্স থেকেই ১৯৬৯ সালে চন্দ্রাভিযানে রওনা হয়েছিল অ্যাপোলো-১১। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করে বিটিভি ও বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন। দেশব্যাপী মাঠ পর্যায়েও বাংলাদেশের সাফল্যের এ দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করে মাঠ প্রশাসন।

এর আগে শুক্রবার ভোরে উড়তে গিয়েও মহাক্ষণের মাত্র ৬০ সেকেন্ড আগে কম্পিউটার জানিয়ে দিল, থামতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত ফ্যালকন-৯ রকেটটি প্রথম প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করতে পারেনি। তাই বাংলাদেশের প্রথম ভূস্থির যোগাযোগ উপগ্রহটি উৎক্ষেপণের জন্য শুক্রবার রাতে আবার সময় দেয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স।

উৎক্ষেপণ সফল হওয়ায় বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব উপগ্রহের মালিক হলো। এ উপগ্রহের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবার সম্প্রসারণ সম্ভব। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় যোগ হবে নতুন মাত্রা।

মার্কিন বেসরকারি মহাকাশ পরিবহন সেবা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স তাদের ফ্যালকন-৯ রকেটের সর্বাধুনিক সংস্করণ ব্লক ৫-এর সাহায্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছে। বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১২ মিনিটে প্রথমে সময় নির্ধারণ হয়। পরে তা পিছিয়ে ২টা ৪২ মিনিট করা হয়। এরপর ৩টা ৪৭ মিনিটে চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করা হয়। উৎক্ষেপণের জন্য সর্বোচ্চ সময় ছিল ৪টা ২২ মিনিট।

এদিকে উৎক্ষেপণ দেখতে কেনেডি স্পেস সেন্টারে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। টেলিযোগাযোগ বিভাগের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এবং বর্তমান তথ্যপ্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের নেতৃত্বে ৪২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও সেখানে ছিল। সেই দলে ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের জন্য আগেই রাশিয়ার ইন্টার স্পুটনিকের কাছ থেকে ২১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্ষপথ ভাড়া নেওয়া হয়। ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট পেয়েছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করা হয়েছে ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে। নির্মাণ, পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও হস্তান্তর শেষে বিশেষ কার্গো বিমানে করে সেটি কেপ কেনাভেরালের লঞ্চ সাইটে পাঠানো হয় গত ৩০ মার্চ।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here