একজন নারী যখন মা হয় তখন তার দায়িত্ব কাউকে বুঝিয়ে দেওয়ার দরকার হয় না। সন্তানের সব দায়িত্বই তিনি কাঁধে তুলে নেন নিজ দায়িত্বে। সন্তান লালন-পালন করে বড় করা, তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করার আপ্রাণ চেষ্টা তিনি করে যান জীবনের শেষদিন পর্যন্ত। আর এসব কিছুই তিনি করেন কোনো প্রতিদানের কথা না ভেবেই। পৃথিবীতে একমাত্র মা-ই বুঝি নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসেন সন্তানদের!

তিন সন্তানের জননী। স্বামী ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। অবসর নেওয়ার বছর দুয়েকের মধ্যেই চলে যান পরপারে। বড় ছেলে আর বড় মেয়ের ততদিনে বিয়ে হয়ে গেছে। বিপদে পড়ে গেলেন ছোট মেয়েটাকে নিয়ে। সবাই নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। ছোট বোনের বিয়ের কথা ভাবার সময় নেই তাদের। মাকেই সব দায়িত্ব নিতে হয়।

বড় ছেলে মেয়েকে বারবার বলে কাজ না হওয়ায়, নিজেই ছেলে দেখে ছোট মেয়ের বিয়ে দিলেন। মেয়ের বিয়ের পর ভাবলেন এবার বুঝি সব দায়িত্ব শেষ। এবার একটু হাত-পা ছড়িয়ে বসা যাক!

তখনই বড় মেয়ের সন্তানের জন্ম হলো। মায়ের ডাক পড়ল নাতির দেখাশোনা করার। মা আনন্দচিত্তেই নাতির যত্ন করছেন। যেন প্রথম সন্তান হওয়ার পর আনাড়ি মা হিসেবে যেসব ভুল করেছিলেন এখন যেন অভিজ্ঞতায় পরিপূর্ণ হয়ে ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার সুযোগ পেলেন।

এদিকে ছেলে ডাকছে, মা তাড়াতাড়ি চলে এসো! এ মাসেই বাবুকে স্কুলে ভর্তি করতে হবে। আমি আর তোমার বউমা তো অফিসে যাব ওকে স্কুলে দিয়েই। নিয়ে আসার দায়িত্ব তোমাকেই নিতে হবে! তা হলে মায়ের ছুটি কবে? উল্টে দেখো, পাল্টে দেখো, আসলে মায়ের কোনো ছুটি নেই।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here