রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা হতে চান। বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা তাকে নিয়ে মাঠে নেমেছেন। অথচ তার নামে তৃতীয় শ্রেণীর এলএলবি ডিগ্রি, এমএলবিতে ফেল এবং রাজনৈতিক জীবনের তথ্য নিয়ে মিথ্যাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। শোভনের বিশ্ববিদ্যালয় সার্টিফিকেটের তৃতীয় শ্রেণীর এলএলবি সনদ, মাস্টার্সে ফেলের সনদ সহ রাজনৈতিক জীবনের তথ্য নিয়ে মিথ্যাচারের প্রমাণ ভাইরাল হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে।

বিভিন্ন সূত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নেতাদের মতে, শোভন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৭/০৮ শিক্ষাবর্ষের আইন বিভাগের ছাত্র ছিল এবং ২০১৩ সালে তৃতীয় শ্রেণীর এলএলবি সার্টিফিকেট অর্জন করে। ২০১৪/১৫ শিক্ষাবর্ষে এমএলবিতে ভর্তি হয়ে অকৃতকার্য হয়ে ২০১৫/১৬ শিক্ষাবর্ষে পুনঃভর্তি হতে পারে না। অতঃপর এখন সম্মেলনের পূর্বে ডিনস কমিটির বিশেষ সুপারিশে ২০০০০ টাকা জরিমানা প্রদান করে এমএলবিতে ভর্তি হয়েছেন।

সূত্র আরো জানায়, শোভন সম্মেলনে তার রাজনৈতিক জীবনের বিত্তান্ত জমা দিয়েছে তার পুরোটাই ভুল এবং মিথ্যাচারে পরিপূর্ন। সে তার জীবন বিত্তান্তে জানিয়েছে ২০০৯-১১ সালে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাসিন হলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং ২০১১-১৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আপ্যায়ন কমিটির সম্পাদক ছিলেন।
কিন্তু সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই সময়ে মহাসিন হলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদের ভেতর তার নাম খুজে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের মহসীন হলের সাবেক সহঃ সভাপতি ইমতিয়াজ বাপ্পি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি জানান, ২০১০ সালের মহসীন হলের ছাত্রলীগের কমিটিতে প্রথম বর্ষের কোন নেতা সাংঠনিক সম্পাদক ছিলনা। তাহলে কিভাবে তৎসময়ে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন কিভাবে সেই কমিটির সাংঠনিক সম্পাদক হয়?

তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল-
ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতা হতে চায় রাজাকারের নাতি!

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে তৎকালীন আলী-মহিউদ্দীন কমিটিটি পূর্ণাঙ্গ হয় ২০১০ সালের মার্চ মাসের ২৪ তারিখে। যে কমিটিতে আমি সহ সভাপতি ছিলাম। এই কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলো ৩ জন তাদের নামও আছে ছবিতে। ২০০৯ সালে মহসীন হলের কোনো কমিটি ছিল না সুতরাং ১ম বর্ষের কারো সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার তো প্রশ্নই ওঠেনা। নেতা হওয়ার দৌড়ে যারা আছেন সবার জন্যই শুভ কামনা। কিন্তু মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজের সিভি বানায়ে নিজেকে বড় মাপের ছাত্রলীগ নেতা বানাবেন সেটা মেনে নেবোনা। সে সময়ের পদ এত সস্তা ছিলোনা যে সেলফি দিয়েই পাওয়া যেত। যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে এসব করছেন। তারা ছাত্রলীগের মূল দায়িত্ব পেলে কি করবেন এখনই কিছুটা আঁচ করতে পারছি

এই স্ট্যাটাসের নিচে অনেক কমেন্ট পড়তে থাকে। তার ভেতর সুস্মিতা বৃষ্টি নামে একজন কমেন্ট করেন, এইসএসসি ২০০৭ হলে ০৭/০৮ সেশন হওয়ার কথা। এখনো কিভাবে আইনে স্নাতকোত্তরে অধ্যায়ন রত??

সূত্র মতে, শোভনের নানা গিয়াস মেম্বার মমিনগন্জ নাগেশ্বরী ৭১ পিস কমিটির সদস্য ছিল। চিহ্নিত রাজাকার হিসাবে মুক্তিযাদ্ধা সংসদ কর্তৃক রাজাকারের তালিকায় তার নাম রয়েছে। শোভন একজন মাদকসেবী, সে একবার গাঁজাসহ সোহরাওয়ার্দী উদ্দ্যান থেকে পুলিশের হাতে আটক হয় । এ ঘটনায় দৈনিক কালের কন্ঠ সহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয় ।

এছাড়া শোভন তহুরা সাবিহা বিথি নামের এক স্কুল শিক্ষিকাকে বিয়ে করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিথি শিলকুড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুলে চাকুরী করে। তার শ্বশুরের নাম আব্দুস সামাদ, পেশা-ব্যবসা, গ্রাম-লক্ষির মোড় বঙ্গসোনাহাট, ইউনিয়ন-সোনাহাট, উপজেলা- ভুরুঙ্গামারী, জিলা- কুড়িগ্রাম।
গত দুই বছরে রাজনীতির মাঠে তাকে খুজে পাওয়া যায়নি তাকে। রাজনীতির চেয়ে নিজের ব্যবসা নিয়ে বেশি ব্যস্ত ছিল এতদিন।আসন্ন সম্মেলন উপলক্ষ্যে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।

এমন একজন সুযোগ সন্ধানী নেতা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পদের দায়িত্ব নিলে সংগঠনের কিভাবে উন্নতি করবে সে বিষয়ে ছাত্রসমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সূত্র:ভোরের পাতা

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here