বিবাহিত, বয়স্ক ব্যবসায়ী আর কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাদের নেতৃত্বে চলছে জাতীয় পার্টির (জাপা) ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজ। ক্ষোভে দুঃখে অনেক নেতাই করেছেন পদত্যাগ, বৈধ বয়স পার হওয়ায় কেউ কেউ আবার নেতৃত্ব ধরে রাখতে মূল পার্টিসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনে ঢুকে পড়েছেন। বাকি যারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রত্ব ধরে রেখেছেন তারা নতুন নেতৃত্বের দাবিতে শীর্ষনেতাদের কাছে ধর্ণা দিয়ে দিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে বৈঠক করে সম্মেলনসহ ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এমনকি দাবি পূরণ না হলে যেকোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে হুমকিও দিয়েছেন।

ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের হুমকিতে নির্বিকার সভাপতি ও সম্পাদক বলছেন, পার্টি প্রধানের (এরশাদ) ইচ্ছেতেই সব হচ্ছে। ছাত্রত্ব শেষ হওয়া অবস্থাতেই আমরা নেতৃত্বে এসেছি। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত থাকব। অন্যদিকে স্থবির ও ঝিমিয়ে পড়াদের সরিয়ে তারুণ্যে ভরপুর নেতাদের নেতৃত্ব আনার প্রতি গুরুত্বরোপ করে নীতি নির্ধারকরা বলছেন, জাতীয় সম্মেলন আয়োজনে ইতোমধ্যে ছাত্রসমাজকে তিন মাস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া নেতাদের অভিযোগ, ৩৮ বছর বয়সী সভাপতি একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। আর ৪৫ বছর বয়সী সাধারণ সম্পাদকের মেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তারা গেল পাঁচ বছরে ১০৯টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে সম্মেলন করেছেন মাত্র ২৮টির। আবার জাপার ঘাঁটি রংপুর কিংবা এই বিভাগের কোনো জেলাতেই কোনো সম্মেলন করেননি। এছাড়া ১৭১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির ১৬৯ নেতাকেই অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সভাপতি-সম্পাদক। তাদের অগণতান্ত্রিক ও অসদাচারণের কারণে রাজনীতি থেকে সরে গেছেন শতাধিক নেতা। আর অর্ধশতাধিক নেতা নেতৃত্ব ধরে রাখতে চলে গেছেন যুব সংহতি, স্বেচ্ছাসেবকসহ মূল পার্টির বিভিন্ন পদে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক নেতার অভিযোগ, শীর্ষ এক নেতাকে ম্যানেজ করেই দুইনেতা নতুন নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা রুদ্ধ করে রেখেছেন। সংগঠনের বেহাল অবস্থার বিষয়টি পার্টি প্রধানকে দফায় দফায় জানানো হলেও সেই নেতা উদ্যোগ না নেয়ায় বয়ঃবৃদ্ধ সভাপতি-সম্পাদক স্বপদে বহাল রয়েছেন। যে কারণে গোটা দেশের নেতারা হতাশ ও নিষ্ক্রিয়।

ক্ষোভে-দুঃখে পদত্যাগ করা কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন ও ছাদেকুর রহমান তালুকদার, আপ্যায়ন সম্পাদক শাহজাদা ইমরানসহ বহু মেধাবী নেতার ভাষ্য, ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও কমিটিতে থাকা লজ্জাজনক।

শাহজাদা ইমরান বলেন, অন্য দলের ছাত্রসংগঠনগুলো যখন ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দিচ্ছে তখন ছাত্রসমাজ সন্ত্রাসমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে। তবে অছাত্রদের নেতৃত্বে স্থবির হয়ে পড়েছে ছাত্ররা।

ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সুলতান জিসান উদ্দিন প্রধান বলেন, বিগত পাঁচ বছরে ঢাকাসহ দেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কলেজেই সম্মেলনই হয়নি। একটি যৌথ সভা ব্যতীয় সাধারণ কোনো সভাও হয়নি। বার্ষিক আয় ব্যয়েরও কোনো হিসাব নেই।

তার অভিযোগ, মেধাবী ও ভদ্র ছেলেদের সংগঠন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

একই অভিযোগ তুলে আরেক সহসভাপতি মোড়ল জিয়াউর রহমান বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই জাতীয় সম্মেলন ও নতুন নেতৃত্বের দাবি জানিয়ে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তাই তরুণ ছাত্রনেতারা দশ দফা দাবি তুলে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন।

অভিযোগের বিরোধিতা করে ছাত্রসমাজের সভাপতি ইফতেখার আহসান হাসান দাবি করলেন গোটা দেশের ছাত্রসমাজ এখন আগের চেয়ে বেশি সক্রিয়। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পরেও কেন ছাত্রসংগঠনে?

এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, পার্টির প্রধানের ইচ্ছেতেই সব হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত নেতৃত্বে থাকতে হবে।

তরুণ নেতাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে জাপার যুগ্ম ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক নোমান মিয়া বলেন, ঝিমিয়ে পড়াদের সরিয়ে তরুণ্যে ভরপুর নেতাদেরই দায়িত্ব দিতে হবে। তবেই ছাত্রসমাজে গতি ফিরবে। আমরা এমন চেষ্টাই করছি।

এ ব্যাপারে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পার্টি প্রধান এরশাদের রাজনৈতিক সচিব সুনীল শুভ রায় বললেন, জাতীয় ছাত্র সমাজের সম্মেলনের জন্য তিনমাস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যেই নতুন নেতৃত্ব তৈরি হবে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here