চট্টগ্রাম সানশাইন গ্রামার স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী তাসফিয়া আমিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার প্রেমিক আদনান আদনান মির্জা অবশেষে মুখ খুলেছে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে দিয়েছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তাসফিয়া হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পতেঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত ২ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকার ১৮ নম্বর ব্রিজের উত্তর পাশে পাথরের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে থাকা অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে জানা যায়, সেটি কক্সবাজারের মেয়ে তাসফিয়া আমিনের। এরপরই আটক করা হয় কিশোরীর প্রেমিক আদনান আদনান মির্জাকে।

এ ঘটনায় ৩ মে তাসফিয়ার বাবা মোহাম্মদ আমিন পতেঙ্গা থানায় মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এনে ছয় জনের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রধান আসামি করা হয় আদনান মির্জাকে। তারপর তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে গাজীপুরের কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী জানান, কিশোর সংশোধন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়কের উপস্থিতিতে পুলিশ আদনানকে তিন ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। তার সঙ্গে তাসফিয়ার সম্পর্কের বিষয়ে অনেক তথ্য দিয়েছে সে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আদনান স্বীকার করে যে, তাসফিয়ার ফেসবুক বন্ধ করে দেন তার বাবা। এরপর তারা দুজনে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন ইনস্টাগ্রাম। এ ছাড়াও আদনান বেশকিছু তথ্য দিয়েছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সেগুলো জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

এদিকে এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, ভিকটিম তাসফিয়ার পরনে থাকা পোশাকগুলো ডিএনএ ম্যাচ (রাসায়নিক পরীক্ষা) করানোর জন্য রবিবার (১৩ মে) আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত সিআইডি ল্যাবে পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ‘পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)’ এ মামলার আসামি ও তাসফিয়ার প্রেমিক আদনানের ব্যবহার করা মোবাইল ফোন এবং সিমের সব তথ্য পাওয়ার ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতার নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে আদনানকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করলে আদালত আগামী ৩১ মে শুনানির দিন ধার্য করেন।

এর আগে, তাসফিয়ার মরদেহের ভিসেরা সংগ্রহ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত সিআইডি ভিসেরার ভিত্তিতে কোনো প্রতিবেদন দিতে পারেনি। তা ছাড়া ওই কিশোরকে বহনকারী সেই সিএনজি অটোরিকশার নম্বরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ওই অটোরিকশার স্ক্রিনশট ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here