হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে এক লন্ডন প্রবাসীর মা ও স্ত্রীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রাত ১১টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন লন্ডন প্রবাসী আখলাক চৌধুরী ওরফে গুলজারের মা মালা বেগম (৫৫) ও স্ত্রী রুমি বেগম (২২)।

খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরির্দশন করে তদন্তে নেমেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সাদুল্লাপুর গ্রামের মৃত রাজা মিয়ার ছেলে গুলজার দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বসবাস করছেন। গত প্রায় ২ বছর আগে একই গ্রামের কুয়েত প্রবাসী সুজন চৌধুরীর মেয়ে ও ডা. নজরুল ইসলামের ছোট বোন রুমি বেগমকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পর থেকে তার বাড়িতে শুধু মা মালা বেগম ও স্ত্রী রুমি বেগম থাকতেন। রোববার রাত ১১টার দিকে হঠাৎ ‘আগুন আগুন’ বলে ওই গ্রামে চিৎকার শুরু হলে গ্রামের মানুষজন ঘর থেকে বেড়িয়ে আসেন। তারা এসে দেখতে পান গুলজার মিয়ার বাড়িতে রক্তাক্ত লাশ পরে আছে।

পরে স্থানীয় লোকজন ওই বাড়িতে গিয়ে গৃহবধূ রুমি ও তার শাশুড়ি মালা বেগমের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বামে নিহত মালা বেগম ও তার পুত্রবধূ রুমি বেগম

খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশ দুটির সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসম শামছুর রহমান ভূঁইয়া, নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার পারভেজ আলম চৌধুরীসহ নবীগঞ্জ থানার অফিসারগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নিহত রুমি বেগমের বড় ভাই পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনই তিনি বোনের বাড়ির লোকজনের খোঁজখবর রাখতেন। রোববার রাতে বোন রুমি মোবাইল ফোনে জানায় চোখে আঘাত পেয়েছে ওষুধ দেওয়ার জন্য। পরে বোনের পাশের বাড়ির জনৈক তালেব মিয়ার মাধ্যমে রাত ১০টার দিকে ওষুধ পাঠান তিনি। এর পর রাত ১১টার দিকে নির্মম এ ঘটনার খবর পান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নবীগঞ্জ থানার ওসি এসএম আতাউর রহমান বলেন, দুজনকে কে বা কারা হত্যা করেছে তা জানা যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here