আর মাত্র একদিন, আগামীকাল মঙ্গলবারই ভোটারদের ভোটে নির্ধারিত হয়ে যাবে কে হচ্ছেন খুলনার পরবর্তী নগরপিতা। সম্প্রতি রাজনীতিতে মর্যাদার লড়াই হয়ে দাঁড়ানো এই নির্বাচন নিয়ে তাই শুধু রাজনৈতিক দলগুলোই নয়, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে দেশবাসীও।

এই নির্বাচনে খুলনা নগরীর ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৪ জন ভোটার আগামীকাল তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ সময় তারা ৩১ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের ১০ নারী কাউন্সিলরকেও নির্বাচিত করবেন। নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের তালুকদার আব্দুল খালেক, বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু, ইসলামী আন্দোলনের মো. মুজ্জাম্মিল হক, জাতীয় পার্টির শফিকুর রহমান ও সিপিবির মিজানুর রহমান বাবু।

নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নগর জুড়ে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। নির্বাচন কমিশনও এই নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ২৮৯টি কেন্দ্রে এ ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোটারদের সুবিধার্থে এক হাজার ৪২৮টি স্থায়ী বুথ ছাড়াও ৩৩টি অস্থায়ী বুথ নির্মাণ করা হয়েছে। এবার নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২টি ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ করা হবে। ২৪নং ওয়ার্ডের ২০৬ নম্বর কেন্দ্রে ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর কেন্দ্রে মোট ১০টি ইভিএম থাকবে।

নির্বাচনে ২০২টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ ও ৮৬টিকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আনসার, আনসার ব্যাটেলিয়ন ও আনসার ভিডিপির মোট ২৪ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ৪ হাজার ৯৭২ কর্মকর্তা ভোট গ্রহণের দায়িত্ব পালন করবেন। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নগরীতে পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশি বিজিবি টহল দেওয়া শুরু করেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কেসিসি নির্বাচনে গত ২৪ এপ্রিল থেকে ৫ জন মেয়র, ১৪৮ জন সাধারণ ও ৩৮ সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীসহ মোট ১৯১ জন প্রতীক পেয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন। ভোট গ্রহণের ৩২ ঘণ্টা আগে সকল প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ হওয়ায় রোববার রাত ১২টায় প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগসহ সকল প্রকার প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে নির্বাচন নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, ‘জনগণ খুলনার উন্নয়ন চায়। গত ৫ বছর খুলনা সিটির মানুষ কোনও উন্নয়ন পায়নি। নাগরিকরা আর বঞ্চিত ও অবহেলিত থাকতে চান না। তাই তারা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় নৌকার বিজয় দেখতে চায়।’ গতকাল রাতে মহানগরীর নতুন বাজার চর এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভার পর প্রচারণা শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে খুলনা শহরজুড়ে দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড় চলছে অভিযোগ করে একইদিন বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, যত বাধাই আসুক, নির্বাচন থেকে বিএনপি সরে দাঁড়াবে না। শহরজুড়ে পুলিশের ধরপাকড় চলছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর হচ্ছে। পুরো শহরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে।’

যদিও আইনশঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে। তারা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে দাবি করেছে। র‌্যাব-৬ এর পরিচালক খন্দকার রফিকুল ইসলাম ও কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সোনালী সেন জানান, নির্বাচনে তিন হাজার ৪৩৭ জন পুলিশ, ১৬ প্লাটুন বিজিবি ও ৩০০ এপিবিএন সদস্য এবং আনসারের চার হাজার ৮শ ৪৫ জন দায়িত্ব পালন করছে।

এপিবিএন ও ব্যাটেলিয়ান আনসারের সমন্বয়ে ৩১টি মোবাইল ফোর্স, ১১টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র্যাবের ৩২টি সেক্টর পার্টি, ৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু করেছে। এছাড়া ৩১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচনের আগে সহিংসতা বন্ধে ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য শনিবার মধ্যরাতের মধ্যে বহিরাগতদের নগরী ত্যাগ করার এবং ইঞ্জিন যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নগরীর প্রবেশদ্বারে পুলিশের বাড়তি চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা টহল শুরু করেছেন। ভোট গ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নগরীতে ২৪ ঘণ্টা সাত প্লাটুন বিজিবি’র টহল জোরদার থাকবে। গত শুক্রবার থেকে অনুমোদনহীন সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে সকল পুলিশ ফোর্সদের ইতোমধ্যে সকল প্রকার দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here