রাজশাহী মহানগর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল হক সুমনকে সমকামিতার অভিযোগে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ মে) দুপুরে জরুরি সভা ডেকে এ সিদ্ধান্ত নেয় নগর যুবলীগ। নগরীর কুমারপাড়ায় অবস্থিত নগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কার্যনির্বাহী পরিষদের সর্বসম্মত এ সিদ্ধান্ত সুপারিশসহ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

বৈঠক শেষে নগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ হাসান খান চৌধুরী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, নগর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে বিকৃত যৌনাচারে লিপ্তের অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল হক সুমন

জানা যায়, এক কিশোরকে প্রথম দফায় বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের পর তাকে বিকৃত যৌনচারে বাধ্য করেন সুমন। এরপর আরো কয়েক দফা একই ঘটনা ঘটনাে হয় ওই কিশোরের সঙ্গে। যৌনাচারের ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরেও ওই কিশোরকে মারার জন্য সুমন খুঁজতে থাকে। পালাতে গিয়ে সে জখমের শিকারও হয়। সুমনের ভয়ে বর্তমানে ওই কিশোর আত্মগোপন করে আছে বলেও দাবি করে সে।

গত শুক্রবার জুমআর নামাজের সময় সুমনের যৌনচারের ভিডিও নিয়ে মসজিদের ইমামের মন্তব্যের জের ধরে নগরীর শিরোইল কলোনী মসজিদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আগে থেকেই অবস্থান নেয়া পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

যৌনচারের শিকার ওই কিশোর অভিযোগ করে তাকে প্রথম দফায় সুমন তাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর নির্যাতন করে বিকৃত যৌনচারে বাধ্য করে। শেষে বিষয়টি কাউকে না বলতে হুমকি দিয়ে কিছু টাকা হাতে ধরে দেয়। এভাবে আরো কয়েক দফা তার ওপর যৌন নির্যাতন করে সুমন।

শেষে ষষ্ঠবারের মতো যৌনচারের ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে সোহাগ নামের এক যুবক। এরপর সোহাগকে ভয়ভীতি দেখাতেন সুমন। ঘটনার পর সোহাগ এখনো নিখোঁজ। তবে ভিডিও ফাঁসের ঘটনার পর ওই কিশোরকেও পুনরায় ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের চেষ্টা করে সুমন। তবে পালাতে গিয়ে কিশোর জখমের শিকার হয়। তারপর থেকে সে আত্মগোপন করে আছে সুমনের রোষানল থেবে বাঁচতে।

বিকৃত যৌনচারের ভিডিও নিয়ে মসজিদের ইমামের মন্তব্যের জেরে উত্তেজনা

অন্যদিকে সুমনের কারণেই ভিডিও ধারণকারী সোহাগ নিখোঁজ হয়ে আছে বলে তার মা আকলিমা বেগম সুমনের বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন।

এদিকে শিরোইলের স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানায়, শিরোইল কলোনী মসজিদের ইমাম মাইনুল ইসলাম আব্বাসি কয়দিন আগে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা সুমনের বিকৃত যৌনচারে ভিডিওটি সম্পন্ন ভুয়া বলে দাবি করেন মুসল্লীদের কাছে।

মুসল্লীরা ইমামকে সুমনের এই অপকর্মের বিষয় নিয়ে আলোচনা না করার জন্য আহ্বান জানান। কিন্তু তার পরেও ইমাম মুসল্লীদের কাছে একই দাবি করেন। এ নিয়ে গত শুক্রবার (১১ মে) জুমার নামাজের সময় উভয়পক্ষের মধ্যে মসজিদের ভিতরেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ নিয়ন্ত্রনে আনে।

প্রসঙ্গত, এক কিশোরের সঙ্গে রাজশাহী মহানগর যুবলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম-সম্পাদক তৌহিদুল হক সুমনের বিকৃত যৌনচারের ভিডিও গত ১৫ এপ্রিল ফাঁস হয়। এরপর গত ২০ এপ্রিল রাজশাহী মহানগর যুবলীগ থেকে সুমনকে বহিস্কার করা হয়। সঙ্গে কারণ দর্শাতে ১৫ দিনের সময় বেধে দেয়া হয়। কোন কারণ না দর্শাতে পারায় তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here