এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবেই খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে, যা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সকাল থেকেই ভোট কেন্দ্রগুলোতে বিপুল সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

এবারের নির্বাচনে মোট ৫ জন মেয়র প্রার্থী, সংরক্ষিত ১০টি ওয়ার্ডে ৩৯ জন এবং ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৪৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রথমবারের মতো দলীয় ভিত্তিতে কেসিসির মেয়র পদে নির্বাচন হওয়ায় প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে।

ইতিমধ্যে সকালে নগরীর পাইওনিয়ার বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক। ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে। এখন পর্যন্ত কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যাননি।

অন্যদিকে সকাল ৯টার কিছু আগে রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপি প্রার্থী মঞ্জু। ভোটদান শেষে তিনি বলেন, ‘আমার এজেন্টদের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার খবর পেয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। খবর পেয়েছি ২২, ২৫, ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কোনও কেন্দ্রেই বিএনপি’র এজেন্ট নেই। তাদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ৩০টি সেন্টারের খবর পেয়েছি যেখান থেকে আমার পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আমার এজেন্টদের প্রবেশের ব্যবস্থা করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানাই।’

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মোট ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ভোটকক্ষ ১ হাজার ১৭৮টি। ভোট কেন্দ্র ও ভোট কক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন ৪ হাজার ৯৭২ জন কর্মকর্তা।

এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার রয়েছেন ২৮৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ১ হাজার ৫৬১ জন এবং পোলিং এজেন্ট রয়েছেন ৩ হাজার ১২২ জন।

এ নির্বাচনে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে স্থায়ী ভোট কক্ষ রয়েছে ১ হাজার ৫৬১টি। আর অস্থায়ী ভোট কক্ষ রয়েছে ৫৫টি। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তথ্যমতে, ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৩৪টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ)।

র‌্যাব-৬ এর পরিচালক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম ও কেএমপির মুখপাত্র সোনালী সেন জানান, নির্বাচনে তিন হাজার ৪৩৭ জন পুলিশ, ১৬ প্লাটুন বিজিবি ও ৩০০ এপিবিএন সদস্য এবং আনসারের চার হাজার ৮৪৫ জন দায়িত্ব পালন করছেন।

এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে ৩১টি মোবাইল ফোর্স, ১১টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, র্যাবের ৩২টি সেক্টর পার্টি, ৪টি স্ট্রাইকিং ফোর্স আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কাজ শুরু করেছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here