সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস রোগের ভয়াবহতার কারণে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বাঁ হাত নাড়াতে পারছেন না। সেই সঙ্গে এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছেন। সোমবার কারাগারে গিয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে এসে স্বজনরা এমনটাই জানিয়েছেন বলে দাবি করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাই অবিলম্বে বিএনপি প্রধানের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিকেলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন তার ছোটভাই শামীম ইস্কান্দার, বোন সেলিমা ইসলাম, ভাতিজা অভিক ইস্কান্দার, নাতনি রাইদা ইসলাম (সাইফুল ইসলাম ডিউকের মেয়ে), ভাগ্নে ডা. মামুনসহ পরিবারের ৫ সদস্য। বিকেলে পৌনে ৫টা থেকে প্রায় এক ঘণ্টা কারাগারের ভেতরে অবস্থান শেষে বের হয়ে আসেন তারা।

খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আজ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন তার স্বজনরা। তারা সেখানে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ভয়াবহ অবনতি দেখে আমাকে অবহিত করেছেন। জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া গত এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে আক্রান্ত। প্রত্যেক রাতে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছে। কোনো অবস্থাতেই তার এই জ্বর নিয়ন্ত্রণে আসছে না।’

ফখরুল বলেন, ‘জ্বরের সঙ্গে ম্যাডামের চোখের সমস্যাও বেড়েছে। ডান চোখ লাল হয়ে ফুলে গেছে। সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস রোগের ভয়াবহতার কারনে তিনি তার বাঁ হাত নাড়াতেই পারছেন না। কোমরের সমস্যার কারণে শরীরের বাঁ পাশ এবং বাঁ পায়েও তীব্র ব্যাথা অনুভব করছেন। তিনি আগের থেকেও অনেক বেশি অসুস্থ। এসব কারণে তিনি হাঁটাচলাও করতে পারছেন না। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা ক্রমান্বয়ে খারাপের দিকে যাচ্ছে।’

‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সুপারিশের নথি এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পড়ে আছে। কিন্তু কোন নির্দেশনা আসেনি বলে তার সুচিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটছে’ -বললেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘এটা অত্যন্ত অমানবিক ব্যাপার। খালেদা জিয়ার মতো জাতীয় নেতার সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। আমরা সন্দিহান, জানি না কেন সরকার খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা করছে না।’

হুশিয়ারী উচ্চারণ করে ফখরুল বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এর সব দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতিতে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে তার রোগের বর্ণনা দেন। চিকিৎসার অভাবে এ ধরনের রোগে কী সমস্যা তৈরি হতে পারে, তা জানান। দ্রুত সুচিকিৎসা করা না হলে তার বাঁ হাত অবশ, অন্ধত্ব এমনকি প্যারালাইসিস হতে পারে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here