২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে বেশ ঘটা করে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছিলেন কেএসআরএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহজাহান কবির। সেবার পদদলিত হয়ে প্রাণ হারান ৭ হতদরিদ্র। দশ বছরের ব্যবধানে এবারও ঠিক নির্বাচনী বছরে প্রাণ হারালেন ১০ নারী ও একটি শিশু। শাহজাহান কবির যে আসনের বাসিন্দা, সেই আসনে একসময় এমপি ছিলেন আ ন ম শামসুল ইসলাম, যিনি বর্তমানে জামায়াতে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত আমির। ২০০৮ সালের নির্বাচনে সাতকানিয়া আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। তাদের দুজনের বাড়ি একই উপজেলায়। সূত্রমতে, দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা।

জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এ বছরও ব্যাপক প্রচার চালিয়ে সোমবার ইফতার পণ্য বিতরণের আয়োজন করেন কেএসআরএমের এমডি শাহজাহান কবির। সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, নির্বাচনী বছর এলেই তিনি এত হাঁকডাক করে দরিদ্রদের মাঝে ইফতার পণ্য বিতরণ করেন। কারণ এমন কর্মকাণ্ড মহতী হিসেবে সর্বজনের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, যা নির্বাচনে সরাসরি প্রভাব ফেলে। আর সাহায্যপ্রাপ্ত দরিদ্র মানুষও তাদের কথায় এমপি নির্বাচনে উদ্বুদ্ধ হন।

নির্বাচনী বছরে শাহজাহান কবির তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠজন আ ন ম শামসুল ইসলামের হয়ে ভোট টানতেই খুব ঘটা করে ইফতার পণ্য বিতরণ করছিলেন বলে জানা যায়। অর্থাৎ জামায়াতের তুষ্টির জন্যই তার এতো আয়োজন। সোমবার পদদলিত হয়ে মৃত্যুবরণ করা ১০ নারীর মধ্যে ৮ জনের বাড়িই সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায়। ফলে নির্বাচনী এলাকার মানুষই ইফতারসামগ্রী পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়েছে।

আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে, তা তারা আগেই আঁচ করতে পেরেছিলেন। তাই ইফতার পণ্য বিতরণের আগে ঘটনাস্থলে কেএসআরএমের পক্ষ থেকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। সম্ভাব্য হতাহতদের চিকিৎসায় একটি চিকিৎসক দলও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এর নেতৃত্বে ছিলেন কেএসআরএমের প্রধান চিকিৎসক ডা. মিসবাহ উদ্দিন আহমদ। কিন্তু সকালে ইফতার পণ্য বিতরণ শুরুর পর সেই চিকিৎসক দলকে সেখানে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তারা হতাহতদের সাহায্যার্থে কিছুই করেননি।

অবশ্য কেএসআরএমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুল করিম এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের সব ধরনের আয়োজনই ছিল। আমরা নারী পুলিশ রাখতে বলেছিলাম। থানা পুলিশকে চিঠি দিয়েছিলাম। নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল। কিন্তু মানুষ অনেক বেশি চলে আসে। আসলে আমরা যত যা-ই বলি, দেশে কিন্তু ক্রমশ দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে আমরা ইফতারসামগ্রী দিতে হিমশিম খাই।

তবে জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করে মেহেরুল করিম বলেন, এমন কোনো বিষয় নেই। আমাদের মালিক একজন দানশীল ব্যক্তি।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here