রাজধানীর শাহাবাগে চাঁদার ২’শ টাকা না পেয়ে গলা কেটে এক হকারকে হত্যা করেছে খায়রুল আলম (৪২) নামে এক দুর্বৃত্ত। মঙ্গলবার সকালে বারডেম হাসপাতালের সামনে ফুট ওভার ব্রিজের উপরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন হকার নুরুন নবী মজুমার (২৩)।

গণপিটুনি দিয়ে খায়রুলকে পুলিশে সোপর্দ করেছে জনতা। পুলিশি প্রহরায় আহত খুনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ একই হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

রমনা থানার এসআই দীপঙ্কর চন্দ্র দাস জানান, হকার নুরুন নবী বারডেম হাসপাতালের সামনে ফুড ওভার ব্রিজের ওপরে ব্রাশ, নেইলকাটার, ছোট-বড় ইস্পাতের চাকুসহ গৃহস্থলীর কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করতেন। সকাল ৯টার দিকে খায়রুল আলম তার দোকানে আসেন। এসময় দোকান থেকে একটি ছুরি হাতে নিয়ে নুরুন নবীর কাছে ২০০ টাকা দাবি করেন তিনি। খায়রুলকে নেশাগ্রস্ত ও অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় নুরুন নবী তার হাত থেকে ছুরিটি কেড়ে নিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন এবং টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এই নিয়ে তারে মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে খায়রুল হকারের হাত থেকে ছুরিটি কেড়ে নিয়ে নুরুন নবীর গলায় আঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় উপস্থিত জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নুরুন নবী ও খায়রুলকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুরুন নবীকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে খায়রুলকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনি আরও জানান, নিহতের বাবার নাম মোস্তফা মজুমদার। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থানাধীন শাহ্ সুলতানপুরে। সপরিবারে তিনি পুরান ঢাকার উর্দ্দো রোডের একটি বাসায় থাকতেন। তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে নুরুন নবী বড়। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত খায়রুল খুনের দায় স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন বলেও এসআই দীপঙ্কর চন্দ্র দাস জানান।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here