বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে গেছে। শিকার হচ্ছে শিশুরাও। পত্রিকার পাতা উল্টালেই চোখে পড়ে এসব। তবে অন্তড়ালে থেকে যায় তারও কয়েকগুন ঘটনা। পুলিশের ধারণা, শিশুরা আসলে একশ্রেণীর মানুষের যৌন বিকৃতির টার্গেটে পরিণত হয়েছে। আর নারী-কিশোরীরা ধর্ষিত হচ্ছেন বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে। আবার কখনও কখনও পুলিশকে না জানিয়ে ভিকটিম মুখ বন্ধ রাখায়।

গত দুদিনে নাটোরের সিংড়া, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় তিন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে সিংড়ায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষণ করা হয়েছে এক নারীকে। রূপগঞ্জে স্বামীর হাত-পা বেঁধে তার সামনেই স্ত্রীকে গণধর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা। আর কেন্দুয়ায় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিন সন্তানের জননী। আবার ধর্ষণের পর ওই নারীর গোপনাঙ্গে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করায় তার অবস্থা গুরুতর।

কেন্দুয়ায় ধর্ষিতার স্বামী জানান, উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের সুন্দ্রাকান্দা গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে রেখে কিছুদিন ধরে ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করছেন তিনি। ১২ মে রাতে একই গ্রামের মৌজ আলীর ছেলে নাজমুল (২৪) তার স্ত্রীকে জোর করে ঘরের পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষক ধারালো কিছু দিয়ে গোপনাঙ্গে আঘাত করে। গুরুতর রক্তক্ষরণ অবস্থায় বাড়ির লোকজন পরদিন সকালে ভিকটিমকে উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করায়।

কেন্দুয়া উপজেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক কল্যাণী হাসানসহ অন্যরা কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে ওই নারীকে দেখতে যান। পরে তারা বিভিন্ন মহল থেকে অর্থ সংগ্রহ করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমারত হোসেন গাজী জানান, এ ব্যাপারে ধর্ষক নাজমুলকে আসামি করে ১৩ মে রাতে কেন্দুয়া থানায় মামলা করা হয়েছে। আসামিকে ধরতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

নাটোরের সিংড়ায়ও গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষিতার স্বামী জানান, রোববার সকাল ১১টার দিকে দেড় বছরের শিশুকন্যাসহ তার স্ত্রী উপজেলার হাতিয়ান্দহ এলাকার তার নানাবাড়ি থেকে ভ্যানে নিজ বাড়ি সদর উপজেলার হালসা গ্রামে যাচ্ছিলেন। হালসা রোডে পাঁচ যুবক তাদের পথরোধ করে শিশুর গলায় ছুরি ধরে। এতে তার স্ত্রী চিৎকার দেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তার মাথায় আঘাত করে।

পরে শিশুসহ মাকে একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। সেখান থেকে পালিয়ে আরেক ভ্যানচালকের সহায়তায় স্বামীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে পরিবারের লোকজন গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ভিকটিমের অভিযোগ, তাকে যুবক রেজওয়ান ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় নাটোর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

ক্রাইম পেট্রোল
ক্রাইম পেট্রোল
প্রতিবেশী দেশ ভারতের মতো দিন দিন আমাদের দেশেও এসব ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সবাই উদ্বিগ্ন। বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা আর ঘটনা ঘটিয়েও সহজে পার পেয়ে যাওয়ার কারণেই এমন অপরাধ বাড়ছে বলে মনে করেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। গ্রাম ও শহরের অনেকেই আবার এসব ঘটনার জন্য ভারতীয় টেলিভিশনকে দায়ী করছেন। বিশেষ করে অপরাধ বিষয়ক টেলিড্রামা ক্রাইম পেট্রোলকে বেশি দায়ী করা হয়। অনুষ্ঠানটি সচেতনতামূলক হলেও অপরাধীরা উল্টো অপরাধের ধরনকেই কব্জা করে।

যদিও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা আছে, ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। কিন্তু এমন অনেক নজির আছে, বছরের পর বছর ধরে মামলা চলছে। তখন ভিকটিম বা তার পরিবার বিচারের আশা ছেড়ে দেয়। কেউ কেউ আবার লোকলজ্জার ভয়ে ঘটনা গোপন রেখে দেন। আবার কখনও কখনও ধর্ষক আটক হলেও পরিবার ভয়ে থাকে, জামিন পেয়ে যদি সেই অপরাধী কোনও ক্ষতি করে দেয়।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here