পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে গিয়ে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের পাশাপাশিদেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই মধ্যাহ্নভোজনের ফাঁকে উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। তাই শেখ হাসিনার এবারের শান্তিনিকেতন সফর বাংলাদেশ-ভারত উভয় দেশের জন্যই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আজ পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত এক খবরে বলো হয়, শান্তিনিকেতনে শুধু অনুষ্ঠান মঞ্চে পাশাপাশি বসাই নয়, শেখ হাসিনার সঙ্গে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা একান্তে কথাও বলবেন নরেন্দ্র মোদি। একসঙ্গে দু’জনে মধ্যাহ্নভোজও সারবেন। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলোচনার পরে শেখ হাসিনার যে সফরসূচি চূড়ান্ত হয়েছে, তাতে ২৫ মে দুপুর ১টা ৪০ থেকে আড়াইটা পর্যন্ত দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই মধ্যাহ্নভোজ-বৈঠকের সময় রাখা হয়েছে।

এর আগে চিনে গিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট শি চিনফিংয়ের সঙ্গে এ ধরনের এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছিলেন মোদি। সে সময় দু’জনের আলোচনায় নির্দিষ্ট আলোচ্য বিষয় রাখা না-হলেও দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করেছিলেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দফতর সূত্রের খবর, হাসিনা ও মোদির মধ্যে ‘মধ্যাহ্নভোজ-বৈঠকেও’ আলোচনার বাঁধাধরা বিষয় রাখা হচ্ছে না। শান্তিনিকেতনে ২৫ কোটি টাকা খরচ করে যে বাংলাদেশ ভবন তৈরি করা হয়েছে, সেই ভবনেই হবে এই বৈঠক। এই ভবনের উদ্বোধন করতেই শান্তিনিকেতনে যাবেন শেখ হাসিনা। সেই দিনেই বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে আসবেন মোদি। সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি হিসেবে ১৫ মিনিটের একটি বক্তব্যও দেবেন শেখ হাসিনা।

এর আগে লন্ডনে কমনওয়েলথ বৈঠকের ফাঁকে মুখোমুখি কথা বলেছেন মোদি ও হাসিনা। কিন্তু বছর শেষে বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে শান্তিনিকেতনের বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে নিজের বাসভবনে এক দল ভারতীয় সাংবাদিকের সঙ্গে আলোচনার সময়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, বন্ধু ভারতকে হাত উপুড় করে সাহায্য করেছে তার সরকার। ফের এই সরকারকে ফিরিয়ে আনতে তিনি ভারতের সহযোগিতা প্রার্থী। তিনি বলেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ভারত বরাবর তাদের পাশে থেকেছে। শুধু একবার ছাড়া। ২০০১ সালের নির্বাচনে তারা অন্য শক্তিকে সমর্থন করেছিল, যারা ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের মাটিকে পাকিস্তানি গুপ্তচর আইএসআইয়ের ঘাঁটিতে পরিণত করেছিল। ১০ ট্রাক অস্ত্র তো ধরা পড়েছিল! এমন কত ট্রাক অস্ত্র তারা ভারতের জঙ্গিদের জন্য পাঠিয়েছিল, কে জানে?

২৬ মে আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হবে। এ দিন নিজের বিশেষ বিমানেই তিনি অন্ডাল বিমানবন্দরে নামবেন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন সড়কপথে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here