তিন যুগের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু তিনি এবার সেই দায়িত্ব ছাড়তে চান। শেখ হাসিনা নিজেই বললেন- একটা দলের সভাপতি হিসেবে ৩৭ বছর হয়ে গেছে, এর বেশি থাকা বোধ হয় সমীচীন হবে না। তার অবর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব খোঁজার জন্যও দলীয় নেতাকর্মীদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থেকে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে নিজের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৩৭তম দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানাতে গেলে শেখ হাসিনা তাদের এ কথা জানান।

সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখতে হবে, সংগঠন যদি শক্তিশালী হয়, ঐক্য থাকে, আর এই সংগঠন যদি জনগণের পাশে থেকে জনমত সৃষ্টি করতে পারে, তখনই যেকোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব হয়; যা আমরা বারবার প্রমাণ করেছি।’

১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‌‘১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের কনফারেন্সে আমার অজান্তেই আমাকে দলের সভানেত্রী করা হয়। এক কঠিন সময়ে দেশে ফিরি, জাতির পিতার খুনিরা তখন পুরস্কৃত হয়ে বহাল তবিয়তে। ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স থাকায় বাবা হত্যার বিচার চাইতে পারছি না, জিয়া তখন নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রতি রাতে কারফিউ দিয়ে দেশ চালাচ্ছেন। আর ভাঙার চেষ্টা চলছে আওয়ামী লীগকে। বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে উঠে দাঁড়াবে, স্বাধীন দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে; এটা যারা চায়নি তাদেরই এই ষড়যন্ত্র ছিল। তারা এ দেশটাকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল।’

প্রতিবন্ধকতা অতিক্রমের জন্য নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাসী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বারবার বাধা এসেছে, আসবে; এটাই স্বাভাবিক। হত্যার (বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা) বিচার করেছি। ষড়যন্ত্রের তদন্ত হয়নি, বিচার হয়নি। মৃত্যুকে আমি অনেক কাছ থেকে দেখেছি। মৃত্যুকে আমি পরোয়া করি না।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here