সব বয়সের মানুষের কাছেই প্রিয় ফল সুমিষ্ট আম। কিন্তু একদল অসাধু ব্যবসায়ী না পাকার আগেই কাঁচা আম গাছ থেকে পেড়ে তাতে মেশাচ্ছে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়ণিক। কৃত্রিমভাবে আমকে দ্রুত পাকাতে তারা এই কাজ করছে। ইতিমধ্যেই গত তিন দিনে রাজধানীর কাওরানবাজার থেকে শুরু করে যাত্রাবাড়ি আড়তে সন্ধান মিলেছে এমন রাসায়নিক মেশানো বিষাক্ত আমের। যা খাওয়া মানবদেহের জন্য সমুহ ক্ষতিকর। গতকালও যাত্রাবাড়িতে এ ধরনের হাজার মণ আম ধ্বংস করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আম পরিপূর্ণভাবে পাকার সময় এখনো হয়নি। তাই এখন বাজারে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ আমই কৃত্রিমভাবে পাকানো। তাই আগামী ১০ থেকে ১৫ দিন পাকা আম না কেনার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্যালসিয়াম কারবাইড ও ইথোফেন হরমোন স্প্রে করে অপরিপক্ক আমেকে পাকাচ্ছে। যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই আগামী ১০ থেকে ১৫ দিন পাকা আম না কেনা ভালো। এতে গাছে থাকা আম পাকার সুযোগ পাবে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে গিয়ে ওই র‌্যাব কর্মকর্তার তথ্যের সত্যতা মিলেছে। কারণ দেখা গেছে, বর্তমানে আড়তে থাকা অধিকাংশ আম বাইরে হলুদ ও পাকা মনে হলেও ভেতরে কাঁচা। যা স্বাদেও টক।

এ ব্যাপারে গতকালের অভিযান শেষে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, ‘এখন বাজারে বিক্রি হওয়া পাকা আমগুলো আসলে অপরিপক্ব। এগুলো পরিপক্ব হতে আরও ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগবে। এখানে এক হাজার মণের বেশি আম জব্দ করা হয়েছে, যা ক্যালসিয়াম কারবাইড ও ইথোফেন হরমোন স্প্রে দিয়ে কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছিল। ইথোফেন হরমোন স্প্রে মূলত জমিতে ব্যবহার করা হয়, কিন্তু অভিযুক্তরা সরাসরি আমে ব্যবহার করেছে। এই আম খেলে ডায়রিয়া, পেটের ও লিভারের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত ইথোফেন হরমোন মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যান্সার ও কিডনি নষ্টসহ মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।

ভোক্তাদের উদ্দেশ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আম যখন পরিপূর্ণ পাকবে (পরিপক্ব হবে) তখন আপনারা খাবেন। আমি ভোক্তা সাধারণের কাছে অনুরোধ করবো, আগামী অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন আপনারা আম কিনবেন না। কারণ আমের বাইরের অংশ দেখলে মনে করবেন এগুলো পাকা বা পরিপক্ব। আসলে এটি ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে পরিপক্ব দেখানো হচ্ছে। বাইরে থেকে হলুদ ও পাকা মনে হলেও ভেতরে কাঁচা।’

তিনি বলেন, ‘শুধু হলুদ টকটকে দেখে আম কিনবেন না, পরিপক্ক হয়েছে কি না দেখে কিনবেন। আমটি সঠিক সময়ে পাড়া হয়েছে কি না খোঁজ-খবর নেবেন।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here