হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সাদুল্লাহপুর গ্রামের লন্ডন প্রবাসী আখলাছ মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়ি ও পরিবারের লোকজনের দেখাশোনার কাজ করতো তালেব হোসেন। কিন্তু এর মধ্যে আকলাক চৌধুরীর তরুণী স্ত্রী রুমির ওপর কুনজর পড়ে তালেবের। শুধু তাই নয়, প্রায়ই বিভিন্নভাবে মালিকের স্ত্রীকে উত্যেক্ত করতো।

এ কাজে তালেবের সঙ্গে যোগ দেয় জাকারিয়া আহমেদ শুভ। দুইজন মিলে রুমিকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। এক পর্যায়ে গত ১৩ মে রাতে ওই গৃহবধূর ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টাও চালায়। এ সময় আকলাক চৌধুরীর মা বিষয়টি টের পেয়ে গেলে তাকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে রুমিকেও হত্যা করে ওই দুই লম্পট।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য প্রকাশ করেন পুলিশ সুপার (এসপি) বিধান ত্রিপুরা। এর আগে দুপুরে জেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আসামি শুভ ও তালেব। এর মধ্যে শুভ বাহুবল উপজেলার খাগাউড়া গ্রামের হাফিজুর রহমানে ছেলে ও তালেব একই গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে।

গেল রবিবার রাত ১১টার দিকে কুর্শি ইউনিয়নের সাদুল্লাপুর গ্রামে লন্ডন প্রবাসী আকলাক চৌধুরী ওরফে গুলজার মিয়ার মা মালা বেগম (৫৫) ও স্ত্রী রুমি বেগম (২২) খুন হন। কিন্তু তখন হত্যাকারীদের চিহ্নিত করা যায়নি। এ ঘটনায় নিহত রুমি বেগমের বড় ভাই পল্লী চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে পরিদিন রাতে নবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এরপরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তে নামে থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই, ডিবি. ডিএসবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েস্থা সংস্থার টিম। বিভিন্ন সূত্র ধরেই গ্রেপ্তার করা হয় শুভ ও তালেবকে। এর মধ্যে শুভ রহমান প্রায় সময়ই রুমিকে ফোনে বিরক্ত করতো। বিষয়টি রুমি তার বড় ভাই এনামুলকে অবগত করেন। পরে শুভকে শাসিয়েও দেন এনামুল।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here