ইমরানুল হক আর তাইজুল খান দুই বন্ধ। প্রথমজনের বাড়ি কক্সবাজারের টেকনাফ, আর দ্বিতীয় জনের মাদারীপুর। ইমরানুল পারিবারিকভাবেই বিত্তশালী। তাইজুলদের বাড়ি মাদারীপুর জেলার হবিগঞ্জের উত্তর দূতখালীতে। বাবা মোতালেব খান ইউনিয়ন পরিষদের সচিব। তাইজুলরা পাঁচ ভাই, চারজনই ইতালিতে থাকেন। উভয়ের বাবা-মারই আশা ছিল ঢাকায় গিয়ে উচ্চশিক্ষিত হয়ে ছেলে তাদের প্রতিষ্ঠিত হবে। ঢাকা এসে পড়াশুনা করে ইমরান-তাইজুল পড়াশুনা করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটি মাদকের ব্যবসায়। ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া এই দুই তরুণ দ্রুত ধনী হওয়ার নেশায় খুলে বসেছিলেন রীতিমতো ইয়াবা বিক্রির নানা প্রতিষ্ঠান।

তবে শেষ রক্ষা হয়নি। দুই বন্ধুর এই ইয়াবা ‘গ্রুপ অব ইন্ডাস্টিজ’ এর খোঁজ ঠিকই পেয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ৪ মে শ্যামপুর থেকে আট হাজার ইয়াবাসহ এই দুই যুবককে গ্রেফতার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল। পরে তাদের বাসা থেকে উদ্ধার হয় আরও ৫২ হাজার ইয়াবা। এরপর মাদক মামলায় রিমান্ডে নিয়ে ইমরান আর তাইজুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা তাদের এই ব্যবসার আদ্যপ্রান্ত জানান। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ইমরানুল ও তাইজুলকে একজন সোর্সের মাধ্যমে আট হাজার ইয়াবা কেনার প্রস্তাব দেন। সে অনুযায়ী ইমরান ও তাইজুল গাড়িতে করে আট হাজার ইয়াবা নিয়ে আসেন। গাড়িটিও ছিল একজন ইয়াবা পাচারকারীর।

দুই যুবক পুলিশকে জানান, রাজধানীর নর্দার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা ২০১৫ সালে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এক যুবকের মাধ্যমে টেকনাফের এক বড় ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। বড় ব্যবসায়ী নামধারী ওই ব্যক্তি আসলে ইয়াবা পাচারকারী। আর যে যুবকের মাধ্যমে ইয়াবা পাচারকারীর সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়, তিনি এখন মালয়েশিয়ায়। ইয়াবা পাচারকারী প্রায়ই ঢাকায় আসতেন। তিনি ইমরান ও তাইজুলকে টাকাপয়সা দিতেন, ভালো ভালো খাবার খাওয়াতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়া শেষ হওয়ার পর তিনি তাদের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি ভাড়া করে দেন। ইমরানুল ও তাইজুল ওই বাসায় বিনা ভাড়ায় থাকতেন, তার বদলে টেকনাফ থেকে আসা ইয়াবা পাহারা দিতেন।

মাঝেমধ্যে ইয়াবা পাচারকারী নিজেই আসতেন, আবার কখনো লোক মারফত চালান পাঠাতেন। তার নির্দেশ অনুযায়ী দুই বন্ধু বিক্রেতাদের মধ্যে ইয়াবা বণ্টন করতেন। একপর্যায়ে পাচারকারী ইমরান ও তাইজুলকে প্রস্তাব দেয় পাহারাদারের কাজ ছেড়ে ইয়াবা বিক্রির কাজ নিতে। প্রতি বড়িতে লাভ হবে ১০ টাকা করে। ৫০ হাজার বড়ির একটা চালান বিক্রি করতে পারলে তারা পাবে পাঁচ লাখ টাকা। ধনী হওয়ার নেশায় বুদ থাকা ইমরান ও তাইজুল এ প্রস্তাব লুফে নেয়। এভাবেই তারা জড়িয়ে পরে ইয়াবার ব্যবসায়।

গ্রেফতারের পর প্রথমে ইমরান ও তাইজুল জানায়, তারা দুই বন্ধু পোশাকসামগ্রী বিক্রি করতেন, তাদের ট্রাভেল এজেন্সিও আছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, তারা আসলে ট্রাভেল এজেন্সির আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা করতেন। এছাড়া দুজনেই একাধিক মাদক মামলার আসামি। যাত্রাবাড়ী ও কক্সবাজারে তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here