রোজা রাখতে মসজিদের মাইক দিয়ে মানুষকে সেহরির খাওয়ার জন্য আহ্বান জানানোর রীতি বহুদিনের। এমনকি কোথাও কোথাও সাইরেন বাজিয়েও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঘুম ভাঙানো হয়। কিন্তু এ কাজটা করতে গিয়ে উল্টো মার খেলেন কুমিল্লার এক মসজিদের ইমাম।

জানা গেছে, প্রথম রোজার ভোররাতে মসজিদের মাইকে সেহরি খাওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছিলেন ইমাম। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘুম থেকে উঠে এসে ইমামকে পিটিয়ে আহত করেন প্রবাস ফেরত যুবক মোশাররফ হোসেন। তার অভিযোগ, ইমামের ডাকাডাকিতে ঘুমের ব্যঘাত ঘটেছে বলেই তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করেন এলাকাবাসী। কিন্তু কাজ হয়নি। এ ঘটনায় এলাকার মুসুল্লিদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় মুসুল্লিরা জানায়, বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের সাদকপুর নোয়াপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সহকারী ইমাম মো. মাসুম শুক্রবার ভোররাতে প্রথম রমজানের সেহরি খাওয়ার জন্য মাইকে ডাকেন। পরে ভোর সাড়ে ৩টায় ইমাম সেহেরি খাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। এ সময় মসজিদের পূর্ব পার্শ্বের বাড়ির আবদুল বারেকের ছেলে মোশাররফ হোসেন ইমামের ওপর হামলা চালান। ইমামের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ নূরুল ইসলাম জানান, গত ৬/৭ মাস আগে সহকারী ইমাম হিসেবে মো. মাসুমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি মসজিদে থেকেই প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজ পড়ান। পবিত্র রমজান মাসে সেহরির সময় মাইকে ডেকে মানুষকে জাগিয়ে দেওয়ার জন্য ইমামকে বলা হয়েছিল।

সে অনুযায়ী শুক্রবার ভোররাতে ইমাম সাহেব ঘুম থেকে উঠার জন্য মাইকে ডাকতে থাকেন। এ সময় মসজিদের পাশের বাড়ির মোশারফ নামে এক যুবকের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে বলে ইমাম সাহেবকে মারধর করে। ওই যুবক এক মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোশাররফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোজ কুমার দে বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here