বাংলাদেশে রোজা ভাঙার কারণ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে কিছু ভুল ধারণ রয়েছে। এর ফলে অনেকেই পড়েন সমস্যায়। আবার অনেকেই রোজা ভেঙেছে ভেবে, রোজা ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে কাফফারা দেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার ইসলামিক সোসাইটি অফ অরেঞ্জ কাউন্টির ইমাম ও পরিচালক এবং উত্তর আমেরিকার ফিকাহ (ইসলামিক আইন) কাউন্সিল এর চেয়ারম্যান ড. মুজাম্মিল এইচ সিদ্দিক রোজা না ভাঙার কারণ সম্পর্কে ১০টি পরামর্শ দিয়েছেন ইসলামিসিটি.ওআরজি নামক ওয়েবসাইটে।

তাঁর দেয়া রোজা না ভাঙার পরামর্শগুলো পাঠকের জন্য তুলে ধরা হল-

১) গোসল বা সাতার কাটার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখে পানি চলে গেলে রোজা ভাঙবে না। কিন্তু ডাইভিং বা পানির গভীরে সাতার কাটা থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে মুখ বা নাক দিয়ে পানি পেটে চলে যেতে পারে।

২) পরিমিত মাত্রায় সুগন্ধী বা পারফিউম ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হবে না।

৩) কন্টাক্ট লেন্স এবং চোখের ড্রপ ব্যবহারে রোজা ভাঙবে না।

৪) ওষুধ হিসেবে ইনজেকশন বা রক্ত পরীক্ষা করলে কোন সমস্যা নেই। তবে গ্লুকোজ জাতীয় কোনো কিছু ইনজেকশনের মাধ্যমে নিলে রোজা থাকবে না।

৫) মিসওয়াক বা টুথব্রাশ ব্যবহার করলে (টুথ পেস্টসহ) রোজার কোন ক্ষতি হবে না। তবে এক্ষেত্রে হালকা মিন্টের পেস্ট ব্যবহার করা ভাল।

৬) ওযু বা গোসল এর সময় কুলকুচিসহ কুলি করা যাবে। তবে এসময় গড়গড়া করা যাবেনা, কারণ এতে পানি পেটের ভেতর গেলে রোজা ঠিক থাকবে না। কারণ গড়গড়া করা অত্যাবশ্যক নয়।

৭) ভুল করে কিছু খেয়ে ফেললে বা ধূমপান করলে রোজা ভাঙবে না। তবে মনে পড়ার সাথে-সাথে খাওয়া না থামালে এবং মনে পড়ার পরও মুখে থাকা খাবার গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে।

৮) রোজা রেখে হাল্কা ঘুমালে এবং কোন প্রকার স্বপ্নদোষ হলেও রোজা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

৯) রমজানের রাতে কেউ সহবাস করলে এবং কারো মাসিক শেষ হলে, তিনি রোজা রাখতে পারবেন। এক্ষেত্রে গোসল করা না হলেও রোজা রাখা যাবে।

১০) রোজা রেখে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চুম্বন হলে তা কারোর ই রোজা নষ্ট হবে না। তবে এক্ষেত্রে একজনের উচিত হবে অন্যজনকে থামানো, যেন চুম্বনের পরে অতিরিক্ত কিছু না হয় যাতে রোজার ভিত্তি নষ্ট হয়।

রোজার আনুষঙ্গিক সবদিক জেনে এবং সুন্দরভাবে রোজা রেখে পবিত্র এই মাসে শান্তি কামনা ই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here