সাংবাদিক তথা গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সীমাবদ্ধ ‘ঠোকাঠুকি’ হতেই পারে। আগেও হয়েছে নানাভাবে; আগামীতেও হয়তো হবে। তবে সেসব ‘ঠোকাঠুকিতে’ হিংস্রতা দেখা যায়নি আগে। কিন্তু আজ? মানবিক ভদ্রতা, সৌজন্যতার মধ্যে হিংস্রতার উপস্থিতি প্রকট।

কেন এমন প্রবণতা? দেশে উচ্চশিক্ষার হার বা মাত্রা বেড়েছে বহুগুণ। সাংবাদিক আর পুলিশ কমিউনিটিতে কাজ করছেন অনেক মেধাবী ও ভদ্র তরুণরা। তাহলে এই সীমালঙ্ঘন কেন? প্রচণ্ড গতি আর চাপের এই নাগরিক জীবনে অসহিষ্ণুতা আমাদের সবাইকে গ্রাস করে নিচ্ছে। প্রতিমুহূর্তে প্রচণ্ড চাপের মুখে কাজ করতে হচ্ছে সংবাদকর্মীদের। একইভাবে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও। তবে স্ব স্ব ক্ষেত্রে যে পেশাদার আচরণ আমাদের করা উচিত তা কি করতে পারছি?

বিগত সময়ের কিছু অভিজ্ঞতা এসব ব্যাপারে আমাদের কিন্তু অন্যভাবে ভাবায়। কিছু ‘বিশেষ মহলের’ চোখে সবচেয়ে বড় শত্রু আমাদের প্রচলিত এই সংবাদ ও গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের কর্মীদের ওপরও তারা চরমভাবে ক্ষুব্ধ। সুযোগ পেলেই আক্রমণ করে বসে গণমাধ্যম তথা সংবাদমাধ্যমে কর্মকর্তাদের ওপর। আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারবো না যে, সেই বিশেষ মহলের সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর হিংস্রতার প্রকাশ ঘটানো পুলিশ কর্মকর্তাদের যোগাযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে যারা সংবাদকর্মীদের পেশাদারিত্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারা এরকম হিংস্রতা প্রকাশ করছে কিনা? যদি তাই হয়, তাহলে তালিকা তৈরি করে সেসব কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেয়া জরুরি।

আর যদি সাংবাদিকরা তাদের পেশাদারিত্বের জায়গা থেকে বিচ্যুত হওয়ার ফলেই এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়ে থাকে, তাহলে সেটাও অনুসন্ধান করা উচিত। এটা করতে হবে, পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আর সাংবাদিক নেতাদের সমন্বয়েই। তবে কোনোভাবেই সাংবাদিক-পুলিশের সম্পর্কে হিংস্রতা কাম্য নয়।

নিয়ন মতিয়ুল
লেখক ও সাংবাদিক

**রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।**

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here